৬ দলের সাথে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ বৈঠক বিএনপির
মান্না-সাকিকে ছাড়, অন্যদের আসন নিয়ে আলোচনা
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন ভাগাভাগি নিয়ে সৃষ্ট মতবিরোধ নিষ্পত্তির জন্য যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ছয়টি দলের সাথে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ বৈঠক করেছে বিএনপি।
গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে বৈঠকে অংশ নেয়া দলগুলো হলো- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও গণফোরাম।
নির্ভরযোগ্য দু’টি সূত্র জানিয়েছে, এদের মধ্যে বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না ও ব্রাণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকিকে একটি করে আসনে ‘সবুজ সঙ্কেত’ দিয়েছে দলটি। ইতোমধ্যে দু’জনকেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকিদের ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হবে।
জানা যায়, আগামী দুই-তিন দিন শরিকদের ব্যাপারে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে। শরিকদের সাথে যেসব আসনে বিএনপির সমঝোতা হবে সেসব আসনে বিএনপির প্রার্থীদের তুলে নেয়া হবে। এ ছাড়া যাদেরকে এবার মনোনয়ন দেয়ার ইচ্ছা থাকলেও সম্ভব হচ্ছে না তাদেরকে সংসদের উচ্চকে ও জাতীয় সরকারে মূল্যায়নের চেষ্টা করবে বিএনপি।
ছয়টি দলের সাথে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি বৈঠক আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে।
এ দিকে আজ শুক্রবার জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাম গণতান্ত্রিক ঐক্য, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি-এলডিপিসহ আরো দুই-একটি দলের সাথে বিএনপির বৈঠক করার কথা রয়েছে। সব দলের সাথে বৈঠক শেষে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাথে বৈঠকে বসবে বিএনপি।
বৈঠক সূত্র জানায়, শরিকদের সাথে আসন সমঝোতা নিয়ে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করছে বিএনপির হাইকমান্ড বলে ছয়টি দলকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী দিনে যুগপৎ আন্দোলন থাকা সব দলকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়টি তুলেছেন কেউ কেউ। এ ছাড়া শরিকদের প্রচার ও গণসংযোগে বিএনপির প্রার্থীরা বাধা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নেতা। বিএনপির প থেকে গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে যুগপৎ শরিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে আসনের চাহিদা জানানো হবে। তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। শরিকদের কোন আসনে সমর্থন জানাবে তা আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বিএনপি। তবে কোনো দলকেই আসনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানায়নি বিএনপি।
শরিকদের দলের কেউ ােভ প্রকাশ করে বলেন, বৈঠকে অনেকটাই আশা-ভরসার বাণী শুনিয়েছে বিএনপি। শরিকদের আসন দেয়ার ব্যাপারে অনেক আগেই বিএনপি তালিকা নিয়েছে। এরপর তারা ২৭২ আসনে প্রার্থী দিলে কিন্তু শরিকদের ঝুলিয়ে রাখছে। এতে শরিকরা নির্বাচনী প্রচারে পিছিয়ে পড়ছে। তাদের আরো আগে শরিকদের আসন বিষয়টি পরিষ্কার করা উচিত ছিল।
নাগরিক ঐক্যর মাহমুদুর রহমান মান্না নয়া দিগন্তকে বলেন, আমাদের দলের চাহিদা ছিল ১০টি আসন। কিন্তু এত দেবে বলে বিএনপি সম্ভব মনে করছে না। তারা দু-একটি আসনে সমর্থন দিতে পারে।
বৈঠকে ঢাকা-৮ আসনের পরিবর্তে ঢাকা-১২ আসন ছাড় দেয়ার দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রতিটি দলের সাথে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ আলোচনা হয়েছে। খোলামেলা ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। আমাদের বিকল্প প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে নিয়েছে বিএনপি। এর বাইরে আরো চার-পাঁচটি আসন নিয়ে আলোচনা করেছি।
গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, আলোচনা এখনো চলমান। আমাদের আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না, তারা সমর্থন দেবে বলে জানিয়েছে। এ ছাড়া আরো কিছু আসনে আমাদের নিজস্ব প্রার্থী থাকবে। এর ব্যাপারে বিএনপির কোনো আপত্তি নেই বলেও জানিয়েছে।
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালের জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এর পর থেকেই বিগত সময়ের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ভূমিকা রেখেছি। যুগপৎ আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি ও জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়টি তুলে ধরেছি। আমাদের কয়েকটি আসনের কথা তুলে ধরেছি। কিন্তু বিএনপির প থেকে স্পষ্টভাবে কিছু বলেনি। তারা পরে জানানোর কথা বলেছে।
ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল নয়া দিগন্তকে বলেন, বৈঠকে মূলত নির্বাচনী ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা আটটি আসনের দাবি জানিয়েছি; কিন্তু বিএনপির প থেকে পরিষ্কারভাবে কোনো কিছু জানানো হয়নি।
তিনি বলেন, আমাদের দলের নিবন্ধন নেই। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে বিএনপি কোনো কমিটমেন্ট করেনি। অনেকটাই আশার বাণী শুনিয়ে বৈঠক শেষ করেছে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে আসন সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শরিকদের জানাবে বিএনপি।
জানা গেছে, বিএনপির আসন ছাড় না দিলে গণতন্ত্র মঞ্চ আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। আগামীকাল শনিবার গণতন্ত্র মঞ্চের বৈঠক রয়েছে। সেখানে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ইতোমধ্যে ১৪১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে গণতন্ত্র মঞ্চ।