ট্রাম্পকে নেতানিয়াহুর ধন্যবাদ

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে চলমান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়নে’র ষষ্ঠ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে গড়ে ওঠা সামরিক সহযোগিতাকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। গতকাল শুক্রবার দক্ষিণ ইসরাইলের একটি বিমানঘাঁটি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজে শেয়ার করা এক বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন যে, তিনি সেখানে অবস্থানরত ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অকুতোভয় পাইলট এবং নিবেদিতপ্রাণ গ্রাউন্ড ক্রুদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি দুই দেশের বিমানবাহিনীর মধ্যকার এই নজিরবিহীন সমন্বয় ও যৌথ তৎপরতাকে বর্তমান যুদ্ধের সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।

বিবৃতিতে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন যে, ইসরাইলি ও মার্কিন বাহিনী সম্মিলিতভাবে ইরানের ‘সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠীর’ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। তিনি দাবি করেন যে, বিগত কয়েক দিনের অভিযানে তারা ইতোমধ্যে অনেক বড় লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন, তবে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের জন্য এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। নেতানিয়াহুর মতে, এই যৌথ অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শত্রুপক্ষের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। বিমান ঘাঁটিতে দেয়া তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ইরান ও লেবানন সীমান্তে সামরিক তৎপরতা অদূর ভবিষ্যতে আরো জোরালো হবে।

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তার দীর্ঘদিনের মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন যে, ইসরাইল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিদ্যমান, তার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাতে চান।

নেতানিয়াহু অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্পের নির্দেশনায় মার্কিন প্রশাসন ইসরাইলের পাশে যেভাবে দাঁড়িয়েছে তা ইতিহাসে বিরল। তিনি বিশ্বাস করেন যে, স্রষ্টার সহায়তায় দুই দেশ একসাথে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে সক্ষম হবে। নেতানিয়াহুর এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলা তীব্রতর হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সমর্থনে পরিচালিত এই ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ এখন একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে।