গরমে শরীর চনমনে রাখতে হলে

Printed Edition

তীব্র গরম পড়তে শুরু করেছে। এখন খাবারে কিছু পরির্তন এনে স্বস্তি পেতে পারেন। কি কি খাবেন?

১. গোটা গ্রীষ্মকাল জুড়ে গরমের সময়টাতে উচ্ছে বা করলা খাওয়া ভালো । উচ্ছে /করলা দিয়ে রান্না করা মুগডাল কিংবা মটরডাল গরমের দুপুরে এক আলাদা অনুভূতি। অল্প আদা বাটাসহ এই ডাল বিস্বাদ মুখে রুচি ফিরিয়ে আনে। তেঁতোর গুণাগুণ শরীরকে ডিটক্স করে এবং রক্ত পরিষ্কার রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। ঝোলও খেতে পারেন।

২. তেঁতো পছন্দ না করলে লাউ খেতে পারেন। এটি হজমের জন্য সবথেকে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর। শরীরকে আর্দ্র রাখতে এবং পেট ঠাণ্ডা রাখতে কাজ করে। গরমের দুপুরে ভাতের পাতে প্রথম পদ হিসেবে লাউয়ের কোনো বিকল্প নেই। এখন সারা বছরই লাউ পাওয়া যায়।

৩. সজনে ডাঁটা আমাদের পাতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। হালকা সর্ষে বা পোস্ত দিয়ে তৈরি সজনের চচ্চড়ি শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখতে সাহায্য করে। এর ওষুধি গুণ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং লিভারের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

৪. কাঁচা আম দিয়ে পাতলা মুসুরডাল শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করতেও অত্যন্ত কার্যকরী। তপ্ত দুপুরে একবাটি আম ডাল নিমেষেই ক্লান্তি দূর করে শরীরকে তরতাজা করে তোলে।

৫. গরমে ঝিঙের মতো জলীয় সবজি শরীরের পানির অভাব মেটাতে বড় ভূমিকা পালন করে। তাই খেতে পারেন ঝিঙে-পোস্ত, অল্প মসলায় তৃপ্তিদায়ক এই খাবার। পোস্ত ঘুমের মান উন্নত করতে এবং শরীরকে ভেতর থেকে ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে।

৬. যারা গরমে মাছ-গোশত এড়িয়ে চলতে চান, তাদের জন্য ডালের বড়া দিয়ে লাউয়ের ঝোল আদর্শ ও পুষ্টিকর খাবার। লাউয়ের গুণাগুণ শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে শান্তি দেয়। মচমচে ডালের বড়া এই সাদামাটা ঝোলকে করে তোলে দারুণ মুখরোচক ও আকর্ষণীয়।

৭. দুপুরের খাওয়া শেষে একবাটি ঠাণ্ডা আমের চাটনি খেতে পারেন। কাঁচা আমের ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হজমে দারুণ সহায়তা করে। অল্প পাঁচফোড়ন আর শুকনো লঙ্কার ফোড়নে তৈরি এই চাটনি গরমের সেরা ‘ডেজার্ট’।

৮. তীব্র রোদে বাইরে থেকে ফিরে এক গ্লাস ঠাণ্ডা ঘোল বা লেবুর শরবত জাদুর মতো কাজ করে। এটি শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ঠিক রাখে এবং তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। চিনি ছাড়া নুন আর ভাজা জিরে গুঁড়া দিয়ে তৈরি এই পানীয়ই গরমে সেরা খাবার। ইন্টারনেট।