হাঙ্গেরির ভাগ্য নির্ধারণী নির্বাচন রোববার
Printed Edition
রয়টার্স
হাঙ্গেরির রাজনীতিতে দীর্ঘ ১৬ বছরের একচ্ছত্র আধিপত্য হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন ভিক্টর অরবান। জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, রোববারের নির্বাচনে হাঙ্গেরির ভোটাররা সম্ভবত তাদের দেশের ভাগ্য এবং ইউরোপে হাঙ্গেরির অবস্থান পরিবর্তনের পে রায় দিতে যাচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ক্রেমলিন উভয় পরেই সমর্থনপুষ্ট অরবান ২০১০ সাল থেকে মতায় রয়েছেন।
অরবান তার শাসনামলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সীমিত করে একটি অনুদার গণতন্ত্র গড়ে তুলেছেন, যা তাকে ইউরোপের অতি-ডানপন্থী এবং ট্রাম্পের মাগা (এমএজিএ) আন্দোলনের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তবে গত তিন বছরের অর্থনৈতিক স্থবিরতা, জীবনযাত্রার উচ্চমূল্য এবং সরকারি ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালীদের সম্পদ বৃদ্ধি সাধারণ ভোটারদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। এ ছাড়া তার সরকারের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সাথে গোপন আঁতাতের অভিযোগও উঠেছে। অরবানের সাবেক অনুগত পিটার মাগয়ার বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের এই অসন্তোষকে পুঁজি করে নিজের কেন্দ্র-ডানপন্থী টিসজা পার্টিকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। বর্তমানে বেশির ভাগ জনমত জরিপে তার দল বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। নির্বাচনী মানচিত্র অরবানের ফিদেজ পার্টির অনুকূলে থাকা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা জাতিগত হাঙ্গেরীয়দের বড় একটি অংশ সরকারকে সমর্থন দেয়ায় ফলাফল যেকোনো দিকে যেতে পারে।
হাঙ্গেরির এই নির্বাচনের গুরুত্ব কেবল ৯৬ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটির জন্য নয়, বরং পুরো ইউরোপের জন্য অত্যন্ত বেশি। চ্যাথাম হাউজের বিশেষজ্ঞ গ্রেগোয়ার রুস বলেন, ইউরোপের মধ্যে হাঙ্গেরিকে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হয়, যারা ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর সুর ব্যবহার করে।