চট্টগ্রামের দোহাজারী-পাহাড়তলী ব্রডগেজে উন্নীতকরণ প্রকল্প আলোর মুখ দেখছে

ব্যয় হচ্ছে ১০ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা

Printed Edition

এসএম রহমান পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)

বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির যৌথ অর্থায়নে দোহাজারী থেকে চট্টগ্রাম পাহাড়তলী মিটারগেজ রেললাইন ব্রডগেজে উন্নীতকরণ প্রকল্প আলোর মুখ দেখছে। ইতোমধ্যে এডিবির সাথে লোন চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, পরে হয়েছে কাজের আন্তর্জাতিক দরপত্রও সম্পন্নের কাজও। এখন চলছে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া, যা আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে সমাপ্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে খুব দ্রুতই আলোর মুখ দেখছে প্রত্যাশিত প্রকল্পটি। ওই প্রকল্পের পিডি মো: আসাদুল হক দৈনিক নয়া দিগন্তকে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যৌথ অর্থায়নে ১০ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা টাকা ব্যয়ে দোহাজারী-কক্সবাজার ডুয়েল গ্যাজ রেলপথের সাথে সঙ্গতি রেখে দোহাজারী হতে ষোলশহর এবং ষোলশহর থেকে চট্টগ্রাম হয়ে পাহাড়তলী পর্যন্ত মিটারগেজ (এমজি) রেলপথকে ব্রডগেজে (বিজি ও এমজি) উন্নীতকরণ প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের রয়েছে তিন হাজার ৭১১ কোটি টাকার উপরে। আর প্রকল্প সহায়তা বা ঋণ (এডিবির) রয়েছে সাত হাজার ৮৬ কোটি টাকা। ২০২৩-এর নভেম্বরে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের আকারে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন লাভ করেছিল। জানা গেছে, দোহাজারী কক্সবাজার রেলপথ নির্মিত হয়েছে সিঙ্গেল ট্র্যাক ডাবল গেজ বা ব্রডগেজে। অপর দিকে দোহাজারি কক্সবাজার রেললাইনে ব্রডগেজ (বিজি) প্রতি এক্সেলে লোড ক্যাপাসিটি রয়েছে প্রায় ৩০ মেট্রিকটনের কাছাকাছি।

বর্তমানে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ট্রেন ছুটছে। সেই ক্যারিজের প্রতি এক্সেলে লোড ক্যাপাসিটি রয়েছে ১৫ মেট্রিক টনের মতো। সে কারণেই শত বছরের পুরনো কালুঘাট রেলওয়ে সেতুর লোড ক্যাপাসিটিও বৃদ্ধি করা হয়। এরপরেই ঢাকা-চট্টগ্রাম ও দোহাজারী হয়ে কক্সবাজার ছুটে চলতে পারছে ট্রেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও দোহাজারী হয়ে কক্সবাজার রেলপথের পরিপূর্ণ সুফল পেতে নেয়া হয় দুই প্রকল্প একটি মিটারগেজ রেলপথকে ব্রডগেজে উন্নীতকরণ প্রকল্প অপরটি কালুরঘাটের পুরনো রেল সেতুর ৭০ মিটার উজানে গ্রহণ করা হয়েছে রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণ প্রকল্প।

দোহাজারী পাহাড়তলী হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরনো রেললাইন ব্রডগেজে উন্নীতকরণ প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সাথে নিরাপদ ও দ্রুতগতিসম্পন্ন নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ স্থাপনকল্পে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থেকে দোহাজারী পর্যন্ত বিদ্যমান মিটারগেজ রেলপথটি ব্রডগেজ রেললাইনে উন্নীতকরণের মাধ্যমে ট্রেনের গতিসীমা বৃদ্ধি এবং সেকশনাল ক্যাপাসিটি ও দৈনিক ২৬ জোড়া ট্রেনে চলাচলে উন্নীত করা সম্ভব হবে। এ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থেকে ঝাউতলা রেলস্টেশন পর্যন্ত ডাবল লাইন ডুয়েলগেজ বাইপাস ট্র্যাক নির্মাণ, চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশন থেকে কালুরঘাট নতুন সেতু সংযোগ সড়ক পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল গ্যাজ ট্র্যাক নির্মাণ, গুমদণ্ডী থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ এবং ওই সেকশনের তিনটি রেলস্টেশন নতুন করে পুনর্নির্মাণ ও ১৪টি রেলস্টেশন সংস্কারকরণ করা হবে।

এ ছাড়া, পাহাড়তলী-ঝাউতলায় বাইপাস নির্মাণ করা হচ্ছে ওই প্রকল্পের অধীনে তা বাস্তবায়ন হলে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেনগুলোকে আর চট্টগ্রামে প্রবেশ করে অতিরিক্ত সময় অপচয় করতে হবে না। এতে এক ঘণ্টা রানিং টাইমও সাশ্রয় সম্ভব হবে। চট্টগ্রামের ষোলশহর থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত উচ্চগতির ট্যুরিস্ট এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়াও ঢাকা ও সিলেট এলাকা থেকে উচ্চগতির ট্রেন পরিচালনা করাও সম্ভব হবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে চট্টগ্রামের গুমদণ্ডী-দোহাজারী মেইনলাইন রেলপথ ২৯.৩২ কিলোমিটার, পাহাড়তলী-ঝাউতলা বাইপাস রেলপথ ডুয়েলগ্যাজ ডবল ট্র্যাক লুপ ও অন্যান্য লাইন ১০.৮৮ কিলোমিটারসহ মোট ৬২.৮৮ কিলোমিটার ট্র্যাককে ডুয়েলগেজ রেললাইন রূপান্তর ও নতুন নির্মাণ করা।

চট্টগ্রাম-ষোলশহর থেকে কালুরঘাট ব্রিজের সংযোগ সড়ক পর্যন্ত ডুয়েলগ্যাজ ডবল ট্র্যাক নির্মাণ, পঁাঁচটি স্টেশন কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলিংকিং কিং সিগন্যাল ও ইন্টারলিংকিং পদ্ধতি চালু করা, তিনটি স্টেশন ভবন পুনর্নির্মাণ এবং ১৪টি স্টেশন ভবনের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা। প্রকল্পের মধ্যে ২০টি মেজর এবং ৬৮টি মাইনর ব্রিজ পুনর্নির্মাণের কাজও রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পে তিনটি রেল ওভারপাস নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই প্রকল্পের মধ্যে ৩০টি মিটারগ্যাজ ডিজেল ইলেকট্রিক (ডিই) লোকোমোটিভও সংগ্রহ হবে বলে অনুমোদিত প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে।