মার্কিন বাহিনীকে সহায়তাকারী ১১০০ আফগানকে কঙ্গোতে পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
তীব্র সমালোচনা
Printed Edition
দ্য গার্ডিয়ান
মার্কিন সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধকালীন সময়ে সহায়তাকারী অন্তত এগারো শ আফগান নাগরিককে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআরসি) পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে মার্কিনিদের সহযোগী হিসেবে কাজ করা এই ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের বিশেষ উদ্যোগটি ডোনাল্ড ট্রাম্প বন্ধ করে দেয়ার পর এই বিকল্প পথটি সামনে আসে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার একটি অলাভজনক সংস্থা এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
এই এগারো শ জনের বিশাল দলটিতে রয়েছেন বিভিন্ন সামরিক দোভাষী এবং বর্তমান মার্কিন বাহিনীর সদস্যদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন। গত এক বছর ধরে তারা কাতারের ‘ক্যাম্প আস-সাইলিয়া’তে অত্যন্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই দলে প্রায় ৭০০ জন নারী ও শিশু রয়েছে। মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পর দেশটিতে আবার তালেবান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা দেশ ছেড়েছিলেন। কিন্তু এখন তাদের এমন এক দেশে পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা নিজেই চরম মানবিক ও বাস্তুচ্যুত সঙ্কটে জর্জরিত।
উল্লেখ্য, কঙ্গোতে কয়েক দশকের গৃহযুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত, যা বছরের শেষ নাগাদ ৯০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসঙ্ঘ। বেসরকারি সংস্থা ‘আফগান ইভ্যাক’-এর প্রেসিডেন্ট শন ভ্যানডিভার এই পরিকল্পনাকে তীব্র সমালোচনা করে ‘উদ্ভট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সূত্রে তিনি এই আলোচনার কথা শুনেছেন।
তার মতে, কাতারে আটকে থাকা অন্তত ৯০০ জন আফগান যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি পুনর্বাসনের যোগ্য এবং মাত্র একটি নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে তাদের আমেরিকায় ঠাঁই দেয়া সম্ভব। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এদের কঙ্গোতে পাঠানোর পরিবর্তে ‘আমেরিকায় স্বাগত’ জানানোই ছিল সবচেয়ে সহজ সমাধান। ভ্যানডিভার আরো সতর্ক করে দেন যে, মার্কিন বাহিনীকে সহায়তার কারণে তাদের আবার আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো অসম্ভব, কারণ সেখানে গেলে তাদের নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে।
এ দিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, আফগান নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা তৃতীয় কোনো দেশে তাদের স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, বর্তমানে এই আফগানদের সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আসার কোনো ‘কার্যকর পথ’ খোলা নেই। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় কঙ্গোর সাথে চলমান আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দফতর। এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন বাহিনীর একসময়ের বিশ্বস্ত সহযোগীদের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।