মিরসরাইয়ে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সঙ্কট : ব্যাহত শিল্প ও ব্যবসা
Printed Edition
এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপজেলা মিরসরাই। এখানে গড়ে উঠছে দেশের অন্যতম বৃহৎ মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল। একের পর এক শিল্পকারখানা স্থাপনের পাশাপাশি বেড়েছে বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফলে লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা দিন দিন বাড়ছে। তবে সেই চাহিদার বিপরীতে সরবরাহে সঙ্কট দেখা দেয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ উপজেলার মানুষ।
গত ২০ ডিসেম্বর থেকে মিরসরাই উপজেলায় এলপিজি গ্যাসের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বিপাকে পড়েছেন। বেশির ভাগ বাড়িতে রান্নার চুলা বন্ধ হয়ে পড়েছে। একই সাথে গ্যাসনির্ভর মিল-কারখানা ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও পড়েছে অনিশ্চয়তায়।
উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিককেন্দ্র বারইয়ারহাট, করেরহাট, শান্তিরহাট, আবুতোরাব বাজার, বড়তাকিয়া, মিরসরাই সদর, জোরারগঞ্জ, মিঠাছড়া ও নিজামপুর বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বেশির ভাগ দোকানেই এলপিজি সিলিন্ডার নেই। কোথাও সীমিত পরিমাণে পাওয়া গেলেও দাম নেয়া হচ্ছে বেশি।
আবুতোরাব বাজার এলাকার আবদুল আউয়াল বলেন, তিন দিন ধরে বাসায় গ্যাস নেই। বাজারে ঘুরেও সিলিন্ডার পাইনি। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। বড়তাকিয়া বাজারের একটি খাবার হোটেলের মালিক রিপন বলেন, আমাদের ব্যবসা পুরোপুরি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। গ্যাস না থাকায় দোকান প্রায় বন্ধ রাখার মতো অবস্থা। প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে।
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটি কারখানার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন এ সঙ্কট চললে উৎপাদন ব্যাহত হবে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গেলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে। স্থানীয় বিএম গ্যাস, ও যমুনা গ্যাসের ডিলারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। এক ডিলার বলেন, কোম্পানি থেকে নিয়মিত গ্যাস আসছে না। যা আসছে, তা মুহূর্তেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
এ দিকে লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়বে নাকি কমবে, সেই সিদ্ধান্ত জানা যাবে আজ (রোববার) তবে গ্যাসের দাম বাড়বে বলে জানিয়েছেন একটি কোম্পানির প্রতিনিধি। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহার সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এই বিড়ম্বনা সৃষ্টি হচ্ছে।