হেলে পড়েছে শাবির ইউসি ভবন, দুর্ঘটনার শঙ্কা

Printed Edition

হোসাইন ইকবাল, শাবিপ্রবি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি সেন্টার (ইউসি ভবন) ভবনটি হেলে পড়েছে এবং ভবনের দেয়ালে একাধিক গভীর ফাটলও ধরা পড়েছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্পের ফলে শিক্ষার্থীরা এটিকে জীবনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। প্রশাসনের ভাষ্য, অতি দ্রুতই সংস্কারের কাজ হাতে নেয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুই তলা ভবনটি স্পষ্টভাবে পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছে। কয়েকটি দেয়ালে লম্বা তির্যক ফাটল দেখা গেছে। ভেতরে প্রবেশ করতেই দেয়ালের চেরা দাগ চোখে পড়ে। এসব চিহ্ন ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এখানে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক সংগঠনের কক্ষ, প্রক্টর অফিস, ছাত্র উপদেশ ও নিদর্শনা দফতরের অফিস ও ব্যাংকসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের কক্ষ রয়েছে। এসব সংগঠনের বিভিন্ন ধরনের ফ্লোর, মিটিংসহ অফিস, দফতরে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয় শিক্ষার্থীদের।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুজ্জামান বলেন, ইউসি ভবনটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিভিন্ন কাজে নিয়মিত সেখানে যাতায়াত করি। আমরা ভয়ে থাকি যে কখন না যেন ভবনটি ভেঙে পড়ে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্প সৃষ্টির ফলে সবাই আরো বেশি ভয়ে আছি।

সিভিল অ্যান্ড ইনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: জহির বিন আলম নয়া দিগন্তকে বলেন, ইউসি ভবনটির অবস্থা খুবই নাজুক। ভবনটি দুইতলা হলেও এটি ভেঙে পড়তে বড় কোনো ভূমিকম্পের দরকার হবে না, সিলেটের আশপাশে যদি ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পও হয়, তাহলেই এটি ভেঙে পড়বে। আমরা ইতোমধ্যে প্রশাসনের কাছে ভবনটি নিয়ে একটা রিপোর্ট জমা দিয়েছি। আমরা সেখানে ভবনটির পশ্চিম পাশের অংশ ভেঙে ফেলার সুপারিশ করেছি।

জানতে চাইলে চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো: জয়নাল ইসলাম চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, এ বিষয়ে আমি একটা রিপোর্ট পেয়েছি এবং সেটার প্রতিউত্তর আমি জমা দিয়ে দিছি। সেখানে আমি ভবনটি ভেঙে ফেলার সুপারিশ করেছি এবং অফিস, ব্যাংক ও অন্যান্য সংগঠনের কক্ষগুলোর জন্য উপযুক্ত স্থান খোঁজা হচ্ছে। প্রশাসন থেকে সিদ্ধান্ত দিলে আমরা কাজ শুরু করব।

ভিসি অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটা রিপোর্ট হাতে পেয়েছি, সেখানে বলা হয়েছে, যে অংশটুকু হেলে পড়েছে সেটা হয়তো ভেঙে ফেলতে হবে। সেটা যাচাই বাছাই করার জন্য চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে দেয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।