পয়লা বৈশাখের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ চালু
পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৯ উপজেলার ৯ ইউনিয়নে বাস্তবায়ন শুরু
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
কৃষকদের জন্য বহুল আলোচিত ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম আগামী পয়লা বৈশাখের মধ্যে (১৪ এপ্রিল) চালু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন-উর রশীদ। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পাইলট প্রকল্প শুরু করা সম্ভব হবে এবং পরবর্তীতে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কৃষক কার্ড চালু নিয়ে গঠিত কমিটির সভা শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় কৃষিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষক কার্ডের সর্বশেষ অগ্রগতি কী জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি যে ইনশা আল্লাহ আমরা ট্রেনে। আগামী পয়লা বৈশাখের মধ্যে শুরু করার চিন্তা করছি এবং আশা করি পারব।
সারা দেশে নাকি কোনো পাইলট বেসিসে এটা চালু করা হবে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু হবে। প্রথম পর্যায়ে ৯টা উপজেলার মধ্যে যাবে। ৯টা উপজেলার ৯টা ইউনিয়নের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি নির্বাচিত উপজেলার নির্দিষ্ট ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
এই কার্ডের মাধ্যমে কি কি সুবিধা পাবে কৃষকরা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রান্তিক ও একেবারে ক্ষুদ্র কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। শুরুতে প্রান্তিক কৃষকদের কিছু বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে, যা অনেকটা ফ্যামিলি কার্ডের আদলে পরিচালিত হবে।
তিনি আরো বলেন, কৃষক কার্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো- উৎপাদন, ভোক্তা, কৃষিজমি, কৃষিপণ্য ও বিভিন্ন জাতের তথ্যকে একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার আওতায় আনা। ফলে কৃষকরা সহজে সরকারি সহায়তা পাবেন এবং সরকারের কাছেও কৃষি খাতের সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য থাকবে।
কৃষকরা কি বিনামূল্যে সার ও বীজ পাবেন এই কার্ডে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিনামূল্যে সার ও বীজ দেয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে একেবারে দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ক্ষেত্রে এ সুবিধা দেয়া হবে কি না- তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আজকের সভায় বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।
কাদের প্রকৃত কৃষক হিসেবে চিহ্নিত করবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, যারা সরাসরি উৎপাদনের সাথে জড়িত- তারাই এই প্রকল্পে কৃষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। প্রকৃত ও সক্রিয় কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।