সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলা

আরিফুল বাবর ও গউছসহ ৯ জন খালাস, ১ জনের মৃত্যুদণ্ড

Printed Edition

সিলেট ব্যুরো

সাবেক মন্ত্রী ও তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টার আলোচিত মামলায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ ৯ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। তবে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন সৈয়দ নাঈম আহমদ আরিফ। তিনি জেলহাজতে রয়েছেন।

মামলার মোট ১৩ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নানসহ তিনজন আগেই মারা যান। জীবিত ১০ জনের রায় ঘোষণা করেন বিচারক। এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিবাদি পরে আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন।

রায় ঘোষণার সময় আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জি কে গউছ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আইনজীবী ছাড়াও বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এ সময় আদালতপাড়ায় ছিলেন। এ উপলে আদালত এলাকায় নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাইবাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত। গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী ঘটনাস্থলে নিহত ও ২৯ জন আহত হন। হামলায় অল্পের জন্য রা পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ওই ঘটনায় দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

২০২০ সালের ২২ অক্টোবর সুরঞ্জিত সেনের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা ঘটনায় দু’টি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসহ ১৩ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১২৩ জন সাী ছিলেন।

রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, এটা ছিল একটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক ও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা। তিনি আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করে বলেন, এই মামলার জন্য বাদির উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত।

এ দিকে রায়ের পর আদালতপাড়ায় বিএনপির নেতাকর্মী ও অনেক সাধারণ মানুষকে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়।