কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামবে পাকিস্তান

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শুধু বয়কটেই থেমে নেই পাকিস্তানের ভাবনা। বাংলাদেশকে নৈতিক সমর্থন জানাতে বিশ্বকাপে নিজেদের অর্জিত প্রতিটি জয় বাংলাদেশের জনগণ ও ক্রিকেটারদের উৎসর্গ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামার কথাও আলোচনায় আছে। পিসিবির অভ্যন্তরীণ মহলে এটিকে ‘স্পোর্টিং প্রোটেস্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যার মাধ্যমে মাঠের ভেতর থেকেই বার্তা দিতে চায় পাকিস্তান। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের এই সাহসী অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় পিসিবি শেষ পর্যন্ত কতটা দূর যায়।

বাংলাদেশের প্রতি প্রকাশ্য একাত্মতা জানিয়ে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত আগেই দিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রধান মহসিন নাকভি। আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা বিতর্কে পাকিস্তান যে নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না, সেটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন। নাকভির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনে পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কটের দিকেও যেতে পারে- যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন তুলতে পারে।

এ বিষয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ মহলের সাথে বৈঠকও করেছেন পিসিবি প্রধান। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজই অথবা আগামী সোমবার। পিসিবি সূত্রের দাবি, পুরো বিশ্বকাপ বয়কট না করলেও অন্তত ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের বিষয়টি জোরালোভাবে ভাবছে পাকিস্তান। এমন সিদ্ধান্ত এলে আইসিসির জন্যও তা হবে বড় চ্যালেঞ্জ। আর্থিক বিষয়টি তো রয়েছেই।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই অবস্থান কেবল দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রকাশ নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজনৈতিক প্রভাব ও নিরাপত্তা ইস্যুতে আইসিসির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। যদি পাকিস্তান সত্যিই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করে বা প্রতীকী প্রতিবাদে নামে, তবে বিশ্বকাপের সূচি, সম্প্রচার ও স্পনসরশিপ সবকিছুর ওপরই প্রভাব পড়তে পারে।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিকে বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েছেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। অথচ সাড়া দেননি নাকভি। টি-২০ বিশ্বকাপ ইস্যুতে পাকিস্তানের কাছে কি শেষপর্যন্ত নতি স্বীকার করবে আইসিসি। নাকভিকে কল দেয়ার খবর ছাড়াও চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য প্রচার করেছে পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিএনএন। তারা দাবি করেছে, শুক্রবারই (আজ) পাকিস্তান তাদের অবস্থান জানিয়ে দেবে। আর তা ঘোষণা করবেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। শেষপর্যন্ত পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনো অজানা। তবে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশে আসতে পারেন মহসিন নাকভি, যিনি একইসাথে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ দিকে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকায় আইসিসি বেশ চাপে। বাংলাদেশের বদলি হিসেবে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে নিলেও পাকিস্তানের বদলি হিসেবে কোনো দলকে প্রস্তুত করার সময়টাও পাচ্ছে না। শেষপর্যন্ত যদি পাকিস্তান বিশ্বকাপে না যায়, তাহলে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়েও তৈরি হবে সংশয়। এ দিকে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি তো রয়েছেই। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দলই বিশ্বকাপে না থাকা মানে আইসিসির আয়ে বড় অঙ্কের ভাটা তৈরি হবে। প্রশ্ন উঠবে বিশ্বকাপ ও আইসিসির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া দল লাহোরে অবস্থান করছে এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ খেলছে। গতকাল শুরু হয়েছে প্রথমটি, আর শেষ ম্যাচ হবে ১ ফেব্রুয়ারি। টেলিকম এশিয়া স্পোর্টসকে উদ্ধৃত করে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ‘বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও পাকিস্তান দল অস্ট্রেলিয়া দলের সাথে একসাথে লাহোর থেকে এয়ার লঙ্কার একটি ফ্লাইটে কলম্বো যাওয়ার বুকিং সম্পন্ন করেছে।’

একই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘নাকভি প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ মহলের পরামর্শ নিয়েই সাবেক পিসিবি প্রধান নাজাম শেঠি ও রমিজ রাজাকে সাথে বৈঠক করেন। দুই সাবেক বোর্ড প্রধানই শ্রীলঙ্কায় দল পাঠানোর পক্ষে মত দিয়েছেন, তবে বয়কটের আলোচনা সম্বন্ধে জানা যায়নি।’