জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত
Printed Edition
রয়টার্স
মিয়ানমারে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পাঁচ বছর পর সেনাসমর্থিত পার্লামেন্টে হওয়া ভোটে সহজে জিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে বসলেন মিন অং হ্লাইং। এর মাধ্যমে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের করে নিলেন।
৬৯ বছর বয়সী এই জেনারেল ২০২১ সালে নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সু চিকে গ্রেফতারের পর দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপ নেয়।
জেনারেল থেকে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিন অং হ্লাইংয়ের এই উত্থান গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে হওয়া এক বিতর্কিত নির্বাচনের ধারাবাহিকতা। ওই নির্বাচনে সেনাবাহিনী সমর্থিত দল বড় ব্যবধানে জয়ী হলেও সমালোচক ও পশ্চিমা সরকারগুলো একে সামরিক শাসন দীর্ঘায়িত করার একটি ‘অপচেষ্টা’ হিসেবেই দেখছে। সেনাবাহিনীর কোটাভুক্ত আইনপ্রণেতা এবং ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) আধিপত্য থাকা পার্লামেন্টে ভোট গণনা টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। তাতে মিন অং হ্লাইংকে অনায়াসেই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে দেখা যায়।
২০১১ সাল থেকে যে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন, তার শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়েই কাক্সিক্ষত প্রেসিডেন্ট পদ নিজের করে নিলেন মিন অং হ্লাইং। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মুখিয়ে ছিলেন।
তারা এই ক্ষমতার পরিবর্তনকে মিন অং হ্লাইংয়ের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এর মাধ্যমে তিনি নামমাত্র বেসামরিক সরকারের প্রধান হিসেবে আন্তর্জাতিক বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন, পাশাপাশি গত ছয় দশকের অধিকাংশ সময় দেশ শাসন করা সামরিক বাহিনীর স্বার্থও রক্ষা করছেন। মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন বিশ্লেষক অং কিয়াও সো বলেন, ‘তিনি দীর্ঘকাল ধরে সেনাপ্রধানের পদটি প্রেসিডেন্টের পদের সাথে বিনিময় করার উচ্চাকাক্সক্ষা লালন করছিলেন এবং তার স্বপ্ন এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে।’
হ্লাইং প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসলেও গত পাঁচ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে মিয়ানমার এখনো লণ্ডভণ্ড। সু চির দলের অবশিষ্টাংশ এবং বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্রগোষ্ঠী মিলে এই সপ্তাহেই জান্তার বিরুদ্ধে একটি নতুন সম্মিলিত ফ্রন্ট গঠন করেছে। সোমবার এক বিবৃতিতে ‘স্টিয়ারিং কাউন্সিল ফর দ্য ইমার্জেন্স অব আ ফেডারেল ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন’ জানিয়েছে, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো সামরিক স্বৈরশাসনসহ সব ধরনের একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সম্মিলিতভাবে একটি নতুন রাজনৈতিক ভূখণ্ড গড়ে তোলা।’
বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, হ্লাইংয়ের নতুন প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক বাড়াতে প্রতিবেশী দেশগুলো যখন সক্রিয় হবে, তখন প্রতিরোধ যোদ্ধারা আরো তীব্র সামরিক চাপ ও নজরদারির মুখে পড়বে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট ও অর্থনৈতিক মন্দার এই সময়ে বিরোধীদের নিজেদের ঐক্য ও সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মনে করেন বিশ্লেষক সাই কি জিন সোয়ে। সঙ্কট যত বাড়বে, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা বজায় রাখাও ততটাই চ্যালেঞ্জিং হবে, মত তার।