নির্বাচনকে ঘিরে দেশে হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা মির্জা ফখরুলের

Printed Edition
first-2
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে স্মৃতিসৌধে মির্জা ফখরুলসহ বিএনপি নেতাদের শ্রদ্ধা নিবেদন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিনষ্টে দেশে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন একটি নতুন অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে, নতুন স্বপ্ন দেখছে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের। সেই সময়ে বাংলাদেশের শত্রুরা হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছে। গতকাল-গত পরশু হত্যাকাণ্ড হয়েছে, আমরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। আমরা আশঙ্কা করছি এ রকম আরো ঘটনা ঘটতে পারে।’

গতকাল রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাক হানাদার বাহিনীর পরাজয় আসন্ন হয়ে উঠেছে। চতুর্দিক থেকে মুক্তিবাহিনী যখন ঢাকা ঘিরে ফেলেছে, সেই সময়ে পাক হানাদার বাহিনী তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই দেশের সব বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি বিনষ্ট করে দেয়ার জন্য এই দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তুলে নিয়ে যায়। পাক হানাদার বাহিনী তাদের দোসরদের সাথে জোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক অনেককে হত্যা করেছে। এই দিনে আমরা আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মেধাহীন করে দেয়ার জন্য এই হত্যাকাণ্ড। একইভাবে দুর্ভাগ্যক্রমে ২০২৪ সালে আমাদের সন্তানদের হত্যা করা হয়েছে।’ এর আগে, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক দিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব আমিনুল হক প্রমুখ।

স্বাধীনতাবিরোধীদের বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই : যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছে, তাদের বিশ্বাস করার কোনো কারণ থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে গতকাল রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘যে আমার স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছে, তাকে বিশ্বাস করার কোনো কারণ থাকতে পারে আমি অন্তত মনে করি না। যে শক্তি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, আজ সেই শক্তি ভোল পাল্টে এমন ভাব দেখাচ্ছে যে তারাই নতুন বাংলাদেশ করতে পারবে; কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এ কথা বিশ্বাস করতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা লড়াই করে, যুদ্ধ করে একটা স্বাধীন ভূখণ্ড এনেছি। যার ফলে আমরা এখানে বেঁচে আছি, টিকে আছি। এই ভূখণ্ড আজ স্বাধীনতার দিকে থাকবে, নাকি যারা স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করে দিতে চেয়েছিল, তাদের দিকে যাবে, আজকে এই প্রশ্নগুলো আসছে। এই জন্য যে, সেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, এই শক্তি আজকে আবার মানুষকে বিভ্রান্ত করছে সেই ধর্মের নামে। ১৯৭১ সালেও কিন্তু সে ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, ১৯৪৭ সালে এই শক্তি সে দিন পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে। এই শক্তি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। আজকে সেই শক্তি ভোল পাল্টে, চেহারা পাল্টে তারা কিন্তু এমন ভাব দেখাচ্ছে যে, তারাই নতুন বাংলাদেশ করতে পারবে। আমরা কেন, সারা দেশের মানুষ এ কথা বিশ্বাস করতে পারে না।’

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের ইতিহাস তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের এ দেশীয় সহযোগীদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান- বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের হত্যা করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের জন্য মেধাশূন্য করে দেয়া। তবে সে ষড়যন্ত্র সফল হয়নি এবং দু’দিন পরই পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে কখনো সফলতা আসে না। সফলতা আসে সত্যের পথে থেকে, সংগ্রাম ও লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে।’

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজ দেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। কোনো চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত না করে জনগণের ঐক্যের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, উদার বাংলাদেশ গড়ে তোলার সময় এসেছে। জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন, বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন ও তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে।’

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘পরাজিত শক্তি পরাজয় মেনে নিতে না পেরে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না এবং কোনো ষড়যন্ত্রই জনগণের ঐক্যকে পরাজিত করতে পারবে না।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। এ ছাড়া বক্তব্য দেন- বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব:) জয়নুল আবেদীনসহ অন্যান্য নেতা।