দেড় কিলোমিটার ভরাট খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু

কলাপাড়ায় ১২ মাস সবজি চাষের আওতায় আসবে ৫০০ একর জমি

Printed Edition

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

পটুয়াখালীর কলাপাড়া কুমিরমারা গ্রামের শতকরা ৯৫ জন কৃষক ১২ মাস সবজি, ধানসহ কোনো না কোনো ফসলের আবাদ করে থাকেন। সবজির গ্রামখ্যাত কুমিরমারা গ্রামের কৃষকের জন্য সুখবর বয়ে আনলো কৃষি মন্ত্রণালয়। মিঠাপানি সংরক্ষণে তাদের ভরাট ও মরা খালে পুনর্খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

উপজেলার ‘সবজি উৎপাদনের হাব’ খ্যাত কুমিরমারা গ্রামের ‘গেণ্ডামারা’ ভরাট খালটির দেড় কিলোমিটার অংশের খনন কাজ গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। খননের ফলে জলাবদ্ধতা ও সেচ সঙ্কট দূর হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, খালগুলো খননের ফলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জানা যায়, এ অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে কৃষকদের বছরে মাত্র একটি ফসল উৎপাদন করেই সন্তুষ্ট থাকতে হতো। আবার বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চাষের জমি ডুবে যেত, নষ্ট হতো ক্ষেতের ফসল। এর সাথে যুক্ত ছিল ভাঙাচোরা রাস্তার দুর্ভোগ কৃষিপণ্য পরিবহনে কৃষকদের পড়তে হতো ভোগান্তিতে।

সম্প্রতি চাষাবাদের সুবিতার্থে মিঠাপানি সংরক্ষণের জন্য এসব খাল পুনর্খননে কৃষি উৎপাদনের জন্য খুবই সহায়ক হবে। তবে ভরাট হয়ে যাওয়া মিঠা পানির বড় জলাধার পাখিমারার মূল খালটি খনন করা জরুরি বলে কৃষকদের দাবি।

গত মঙ্গলবার এই খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও নীলগঞ্জ ইউনিয়নের প্রশাসক মো: নাহিদ হাসান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএডিসি পটুয়াখালীর সহকারী প্রকৌশলী ইয়াকুব আলী, সিনিয়র উপসহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ মেহাইমিনুল ইসলাম, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মেম্বার আব্দুল হামিদ, হারুন-অর-রশীদ প্রমুখ।

কুমিরমারা গ্রামের কৃষক জুয়েল হোসেন বলেন, পানির অভাবে আগে শুধু বর্ষায় একবার ধান চাষ করতে পারতাম। এখন সেচের সুবিধা পাওয়ায় বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল ফলানো সম্ভব হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো: নাহিদ হাসান জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিএডিসি এসএসিপি পকল্পের আওতায় কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রামের এ খালটি পুনর্খনন করা হচ্ছে। এর ফলে খালসংলগ্ন ২০০ হেক্টর (প্রায় ৫০০ একর) জমিতে রবি মৌসুমে অতিরিক্ত এক-দু’টি ফসল আবাদ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, ২১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে এই খালটির দেড় কিমি অংশের টপে ২৮ ফুট প্রস্থ গভীরতা ৯ ফুট ও তলদেশ ৯ ফুট প্রস্থ খনন করা হবে।