অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক
Printed Edition
এনডিটিভি
সরকারের সাথে ‘দীর্ঘ আলোচনার পর এবং সহিংসতা এড়াতে’ অবশেষে ২৬ দিন পর অনশন ভাঙলেন ভারতের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সরকারের পক্ষ থেকে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে না এমন আশ্বাস পেয়ে তবেই ওয়াংচুক গুরুগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে তার অনশন শেষ করেছেন।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শুরু করে বেশ কয়েক দফা দাবিতে ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে এখনো ধর্নায় আছে ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যরা। ওয়াংচুকের অনশনের কারণ ভারতের মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার (নিট) প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা। প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে যুব সংগঠন সিজেপির সমর্থনে গত ২৮ জুন থেকে অনশনে বসেছিলেন ৫৯ বছর ওয়াংচুক। টানা অনশনের ফলে এর মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। অনশনের ২১ দিনের মাথায় তাকে হাসপাতালেও ভর্তি করে কর্তৃপক্ষ।
অবশেষে ২৭ দিনের মাথায় অনশন ভাঙলেন ওয়াচুক। সোশাল মিডিয়ায় আসা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং হাসপাতালের কেবিনে ওয়াংচুকের পাশে আছেন। একটি পেয়ালা থেকে তাকে পান করতেও সহযোগিতা করছেন তারা। সেখানে এই সমাজকর্মীর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোকেও দেখা গেছে। অনশন প্রত্যাহারের পরে ওয়াংচুককে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানিয়েছেন কয়েকজন। এরপর এক্সে একটি পোস্ট অনশন ভাঙার কারণ তুলে ধরেছেন ওয়াংচুক।
তিনি লিখেছেন, ‘এইমাত্র কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী জে পি নাড্ডা, ড. জিতেন্দ্র সিং, লেহ লাদাখ অ্যাপেক্স বডির ঊর্ধ্বতন নেতাদের উপস্থিতিতে আমি অবশেষে ২৬ দিনের অনশন ভঙ্গ করেছি। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জন সংসদ সদস্য আমাকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়ে আমার সাথে দেখা করেছিলেন বা চিঠি দিয়েছিলেন। ‘বিভিন্ন শর্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর এবং সম্ভাব্য সহিংসতার কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
শিগগিরই একটি ভিডিও বার্তায় শর্তগুলো বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন ওয়াংচুক। পাশাপাশি সংযম বজায় রেখে আন্দোলন সংশ্লিষ্টদের যেকোনো ধরনের সংহিসতা রুখে দেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, সতর্ক থাকার কথাও।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওই সমাজকর্মীকে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে তার সুস্বাস্থ্য কামনা করেছেন। এক্সে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সোনমজিকে অনুরোধ করছি, তিনি যেন ডাক্তারদের পরামর্শ মেনে চলেন এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আগের ওজন ফিরে পান। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি সোনমজি যেন সুস্থ থাকেন।’