দেবীগঞ্জে ইউএনওর ওপর হামলা, তেল বিক্রি বন্ধ

Printed Edition

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পেট্রল পাম্পে দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলার ঘটনায় ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ২০০ থেকে ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার রাতেই উপজেলা প্রশাসনের পেশকার সিরাজুল ইসলাম বাদি হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই পুলিশ এলাকায় অভিযান শুরু করেছে। অভিযুক্তদের ধরতে সম্ভাব্য স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

জানা যায়, শনিবার ভোর থেকেই পেট্রল সরবরাহের খবরে পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন পড়ে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তেল সরবরাহ কার্যক্রম পরিদর্শনে সেখানে যান ইউএনও সবুজ কুমার বসাক।

ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ফুয়েল কার্ড, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালকদের লাইন থেকে সরে যেতে নির্দেশ দেন। এ সময় দুই মোটরসাইকেল চালকের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাদের ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

এতে লাইনে অপেক্ষমাণ ৩০ থেকে ৪০ জন চালক হট্টগোল শুরু করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের অনেকের কাছেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষুব্ধ কিছু ব্যক্তি ইউএনও এবং সাথে থাকা আনসার সদস্যদের দিকে তেড়ে যান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ইউএনওকে নিরাপত্তার জন্য পাশের একটি বাড়িতে সরিয়ে নেয়া হয়। এ সময় আনসার সদস্য তৈয়বুর রহমানকে মারধর করা হয় এবং তার সাথে থাকা অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ থাকবে।