মহাপরিদর্শক বরাবর স্মারকলিপি
দ্রুত পদপে না নিলে ১৪ জানুয়ারি দেশব্যাপী হোটেল রেস্তোরাঁয় কর্মবিরতি
Printed Edition
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের মহাপরিদর্শক বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের ল্েয জাতীয় প্রেস কাবের সামনে গতকাল সমাবেশ করে হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ। পরিষদের আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্ট অ্যান্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন, বাংলাদেশ স’মিল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি খলিলুর রহমান, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সঙ্ঘের যুগ্ম সম্পাদক প্রকাশ দত্ত ও ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বেলায়েত হোসেন নয়ন, ঢাকা পোশাক প্রস্তুতকারী শ্রমিক সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম মানিক, ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা চালক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক শেখ হানিফসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। সমাবেশে সংগ্রাম পরিষদের পে বক্তব্য রাখেন পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক তফাজ্জল হোসেন এবং ঢাকা মহানগর সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম।
সমাবেশে নেতারা বলেন, স্মারকলিপির পরিপ্রেেিত দ্রুত পদপে গ্রহণ করা না হলে আগামী ১৪ জানুয়ারি হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে দেশব্যাপী কর্মবিরতি পালন করা হবে। নেতারা বলেন, চলতি বছরের ৫ মে হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী যে মাসে গেজেট ঘোষণা হয়, সেই মাস থেকেই ঘোষিত মজুরি কার্যকর করার কথা। অথচ প্রায় ৮ মাস অতিবাহিত হতে চললেও এখনো পর্যন্ত হোটেল ও রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঘোষিত গেজেট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। সরকার ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী মজুরি পরিশোধ করা না হলে শ্রম অধ্যাদেশ-২০২৫ এর ২৮৯-ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মালিককে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার হতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ গেজেট অনুযায়ী শ্রমিকের সব বকেয়া পাওনা পরিশোধ করার কথা বলা হয়েছে। সে মোতাবেক সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর কার্যকর কোনো পদপে গ্রহণ না করায় গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে মহাপরিদর্শক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। একই সাথে দেশব্যাপী হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরের ইউনিয়নগুলো থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে নিম্নতম মজুরির গেজেট বাস্তবায়নসহ অন্যান্য দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। তথাপি সরকার ও মালিক- কোনো প থেকেই কার্যকর কোনো পদপে গ্রহণ না করায় শ্রমিকদের মাঝে হতাশা ও ােভ বিরাজ করে। এমতাবস্থায় হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে ক্রিয়াশীল সারা দেশের সংগঠনগুলো নিয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। সংগ্রাম পরিষদ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকদের সাথে মতবিনিময় করে আগামী ১৪ জানুয়ারি সারা দেশে হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে কর্মবিরতি ঘোষণা করে। ফলে সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরির গেজেট অবিলম্বে বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদানসহ ৮ ঘণ্টা শ্রমদিবস কার্যকর এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জেলা-অঞ্চলে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়নের প্রেেিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে সংগ্রাম পরিষদের ঘোষিত কর্মবিরতি পালন করা ছাড়া শ্রমিকদের কাছে আর বিকল্প করণীয় থাকবে না। বিজ্ঞপ্তি।