ফেনীর স্কুলছাত্র নাশিতকে হত্যার পর লাশ গুম : ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

Printed Edition

ফেনী অফিস

ফেনীর বহুল আলোচিত স্কুলছাত্র নাশিতকে (১০) হত্যার পর লাশ গুমের মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া আসামিদের প্রত্যেককে হত্যা মামলায় ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং লাশ গুমের অপরাধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অপর দিকে অপহরণের অপরাধে ২ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ.এন.এম মোরশেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো আশ্রাফ হোসেন চৌধুরী তুষার, মোবারক হোসেন প্রকাশ ওয়াসি ও ওমর ফারুক রিপাত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট শাহাব উদ্দিন আহমদ জানান, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় আতিকুল আলম সড়কে কোচিং ক্লাস শেষ করে বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যায় ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র নাশিত। নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পূর্বপরিচিত তুষার ও তার সহযোগীরা নাশিতকে অপহরণ করে দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় নিয়ে জুসের সাথে ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে। পরে নাশিতের ছবি তুলে তার বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ রেললাইনের পাশে ডোবায় ফেলে দেয় তারা। লাশ যেন পানিতে ভেসে না ওঠে সেজন্য ওই শিক্ষার্থীর স্কুল ব্যাগে পাথর ভরে পানিতে ফেলা হয়। এ ঘটনায় নাশিতের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ পরদিন (২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর) ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। দুই দিন ধরে একটি মোবাইল নম্বর থেকে নাশিতের বাবাকে কল করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে নিহতের বাবা পুলিশকে তুষার নামে এক কিশোরকে সন্দেহের কথা জানান।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতে তুষারকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হলে তার দেয়া তথ্য মতে, শহরতলীর দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে নাশিতের স্কুল ব্যাগসহ লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তুষারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নাশিতকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি ও পরে হত্যা করে লাশ গুমের চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশ ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। নাশিত ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার জয়পুর গ্রামের আনসার আলী ফকির বাড়ির মাঈন উদ্দিন সোহাগের ছোট ছেলে। পরিবারের সাথে ফেনী পৌরসভার একাডেমি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করত। মামলাটির তদন্ত শেষে পুলিশ উল্লেখিত তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। আদালত সাক্ষ্য প্রমাণে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ভিন্ন ভিন্ন অপরাধের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন খান ও মামলার বাদি মাঈন উদ্দিন সোহাগ। তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।