সিজন চেঞ্জে ঘরে ঘরে অসুস্থতা বাড়ছে জ্বর কাশির ওষুধ বিক্রি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঋতু পরিবর্তনে বেড়েছে ঘরে ঘরে অসুস্থতা। বিশেষ করে সর্দি-কাশি ও জ্বর প্রায় সব পরিবারেই এখন একটি সাধারণ রোগ হয়ে পড়েছে। ফার্মেসিতে প্যারাসিটামল, কাশির ওষুধ ও অ্যালার্জি জাতীয় ওষুধের বিক্রি বেড়ে গেছে। কাশির সাথে সাথে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন বয়স্করা, শিশুদের সংখ্যাও কম নয়। শ্বাসকষ্ট কমাতে মহল্লার ওষুধের দোকানগুলোতে সন্ধ্যার পর নেবুলাইজার মেশিনের ব্যবহারও বেড়েছে। একটি ছোট ওষুধের দোকানেও দিন শেষে প্রায় পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকার সর্দি-কাশি-জ্বর ও শ্বাসকষ্টের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, শীত শেষে বসন্তের শুরুর দিকে অর্থাৎ গরম একটু বাড়লেই এমনটা হচ্ছে। তারা বলছেন, হঠাৎ তাপমাত্রা ওঠা-নামা করার কারণে এমনটা হয়। প্রকৃতিতে তাপের পরিবর্তন ঘটে গেলেও শরীর এত তাড়াতাড়ি তা মানিয়ে নিতে পারে না। হঠাৎ ঠাণ্ডা থেকে গরমে বা গরম থেকে ঠাণ্ডায় পড়লে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউন সিস্টেম) কিছুটা দুর্বল হয়ে যায়। নাক দিয়ে পানি পড়া গলা ব্যথা শুকনো বা কফসহ কাশিসহ হালকা থেকে মাঝারি জ্বর শরীর ব্যথা হতে পারে।

‘ঠিক কী কারণে শীতের শেষে এবং বসন্তের শুরুতে সর্দি-কাশি ও জ্বর হয়ে থাকে’ এ প্রশ্নের উত্তরে বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: এ কে এম সাজেদুর রহমান বলেন, এ সময় নির্দিষ্ট কিছু ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়ে উঠে। ঋতু পরিবর্তনের সময় বাতাসে প্রায় ২০০ ধরনের ভাইরাস সক্রিয় হয়। এর মধ্যে রাইনোভাইরাস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস অন্যতম। এরা সহজেই শ্বাসনালীতে সংক্রমণ ঘটায়, ফলে সর্দি, কাশি ও জ্বর হয়।

অপর দিকে এই ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ছাড়াও আর্দ্রতা ও পরিবেশগত পরিবর্তনও অসুস্থতার আরেকটি ফ্যাক্টর।

শীতকালে বাতাস শুষ্ক থাকে, বসন্তে আর্দ্রতা বেড়ে যায়। শুষ্ক বাতাসে নাক ও গলার মিউকাস মেমব্রেন শুকিয়ে যায়, ফলে জীবাণু সেখানে সহজে প্রবেশ করে। আর্দ্র পরিবেশ পেলেই সেই ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

অ্যালার্জি ও পরাগরেণুর কারণেও বসন্তের শুরুর সময়টায় মানুষের মধ্যে অসুস্থতা বেড়ে যায়। বসন্তকালে গাছপালা ফুল ফোটায় বলে বাতাসে পরাগরেণু বেড়ে যায়। পরাগরেণু অনেকের জন্য অ্যালার্জি বাড়িয়ে দেয়, ফলে অনেকের সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ তৈরি করে।

ডা: এ কে এম সাজেদুর রহমান বলেন, ঋতু পরিবর্তনের সময় ঘুমের অভাব, অনিয়মিত খাবার, কম পানি পানও ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে। এ সময়ে জীবনযাত্রায় বিশেষ প্রভাব পড়ে। বাতাসে অনেক বেশি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া থাকে বলে স্কুল, অফিস বা জনসমাগমে দ্রুত ছড়ায় এবং মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রতিরোধের উপায় হিসেবে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পানি পান ও সুষম খাবার খাওয়া উচিত এই সময়টায়। নিয়মিত হাত ধোয়া ও মাস্ক ব্যবহার করলে সুফল পাওয়া যায়। পর্যাপ্ত ঘুম ও শরীরচর্চা করে ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। কেউ অ্যালার্জিপ্রবণ হলে তাদের এ সময়টায় বাইরে গেলে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

সর্দি-কাশি শুরু হয়ে গেলে চিকিৎসকরা বিশ্রাম নেয়ার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া গরম পানির ভাঁপ ও লবণ পানি দিয়ে গার্গল করতে পারলে উপকার পাওয়া যায়। প্রয়োজন হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।