জামায়াত-এনসিপি জোটের ১২ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, স্থগিত মনিরার

সংরক্ষিত নারী আসন

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থিতা বাছাইয়ে জামায়াত-এনসিপি জোটের ১৩ জনের মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এনসিপির প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে বলে রিটার্নিং অফিসার মো: মঈন উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। অন্য দিকে, এনসিপি মনোনীত অপর প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুম গত মঙ্গলবার নির্ধারিত সময় ৪টার পর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায় সেটা গ্রহণ হয়নি বলে ইসি থেকে জানা গেছে। ৫০ আসনের বিপরীতে মোট প্রার্থী এখন ৫৩ জন। আজ সকাল ১০টা থেকে বিএনপির প্রার্থীদের এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে।

আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে সংরক্ষিত নারী আসনের রিটার্নিং অফিসার মো: মঈন উদ্দিন খান মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন। এ সময় সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো: মনির হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈধ ঘোষিত জামায়াতের প্রার্থীরা হলেন- নুরুন্নিসা সিদ্দীকা (সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), মারজিয়া বেগম (সহকারী সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী (আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি), নাজমুন নাহার নীলু (প্রচার ও সাহিত্য সংস্কৃতিক বিভাগীয় সেক্রেটারি), অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান (কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সাবেক সেক্রেটারি, সিলেট মহানগরী), সাজেদা সামাদ (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালিকা), শামছুন্নাহার বেগম (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা) ইঞ্জি: মারদিয়া মমতাজ (সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি নারী অধিকার আন্দোলন) রোকেয়া বেগম (জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা)।

এ ছাড়া জামায়াতের ছেড়ে দেয়া তিনটি আসনে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা: মাহমুদা আলম মিতু। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি (জাগপা) ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইঞ্জি: মাহবুবা হাকিমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্য দিকে, এনসিপির মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্রের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাকে সময় দেয়া হয়েছে। শুনানিতে জানা যায়, তিনি পূর্বে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন এবং বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন। গত বছরের শেষ দিকে তিনি চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী সরকারি চাকরি থেকে অবসর বা অব্যাহতির পর তিন বছর সময় অতিবাহিত না হলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার যোগ্যতা অর্জন হয় না- এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তার প্রার্থিতা যাচাই করা হচ্ছে। ওই সময়ের মধ্যে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে পারবেন বলে জানায় ইসি।

আইন অনুযায়ী, কোনো জোটের জন্য নির্ধারিত আসনের চেয়ে মনোনয়ন কম হলে সেই আসনটি সকল দল বা জোটের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে। ফলে নতুন তফসিলে নির্বাচন হলে বিএনপি জোটের একটি আসন বেড়ে ৩৭টি হতে পারে। কেননা, এমন নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংশ্লিষ্ট পদে নির্বাচিত করবেন। আর এতে বিএনপির ভোট বেশি থাকায় দলটি সেই আসন পেতে পারে বলে মনে করছেন ইসি কর্মকর্তারা।

নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: মঈন উদ্দীন খান বলেন, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার মধ্যে আবেদন জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নুসরাত তাবাসসুম জমা দেন ৪টা ১৯ মিনিটে। আইন অনুযায়ী সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো আবেদন গ্রহণ করার সুযোগ না থাকায় তার নাম প্রার্থীদের তালিকায় রাখা হয়নি। ফলে জামায়াত জোটের জন্য বরাদ্দকৃত ১৩টি আসনের মধ্যে একটি আসন তাদের হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যা পরবর্তী সময়ে ভোটের মাধ্যমে অন্য কোনো দলের দখলে চলে যেতে পারে। তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।