গতি নয় স্কিলেই জোর নাহিদ রানার

Printed Edition

জসিম উদ্দিন রানা

দশম ওভারে বল হাতে পান নাহিদ। বলের ঔজ্জ্বলতা তখনো হারায়নি। গতি নাহিদের শক্তির জায়গা। স্কিল পারফরম্যান্সের বুনিয়াদ। ভরসা রাখলেন নিজের স্কিলে। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে নাহিদ ফেরালেন শাহিবজাদা ফারহানকে। ব্রেক এনে দেয়ার পরই ক্ষান্ত হননি। পরের ওভারে সামিল হোসেন হাওয়ায়থ ক্যাচ তোলেন। তৃতীয় ওভারে ফিরে নাহিদের তৃতীয় শিকার সাদাকাত। তিন অভিষিক্ত টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকেই নিজের শর্ট ডেলিভারিতে আউট করেন। বাড়তি গতি থাকায় বথ্যাটাররা ছিলেন অসহায়। বুঝে উঠতে পারছিলেন না কিভাবে সামলাবেন। তার আগেই সাজঘরে।

নাহিদের পরের দুই শিকার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগা। ভয়ঙ্কর সুইং ডেলিভারিতে বথ্যাট সরাতে পারেননি রিজওয়ান। আউটসুইং ডেলিভারিটি ছিল দিনের সেরা। সালমান আগা ফের শর্ট বলে কথ্যাচ দেন শর্ট লেগে। ৫ ওভার শেষে ১৮ রানে নাহিদের পকেটে ৫ উইকেট। কথ্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার নাহিদের। বাংলাদেশের কোনো পেসার এত কম সময়ে এর আগে ৫ উইকেট পায়নি কখনো। নাহিদের গতিতে দিশেহারা হয়ে নাস্তানাবুদ পাকিস্তানের বথ্যাটিং। এরপর টানা দুই ওভার আরো হাত ঘুরান নাহিদ। ৭ ওভারের স্পেলে আরেকটি উইকেট নিতে পারতেন। সে জনথ্য রিভিউ নিতে হতো। কিন্তু অধিনায়ক মিরাজকে মানাতেই পারেননি। পরে দেখা গেল সেটি আউট। তখন আফসোস করা ছাড়া বাংলাদেশ শিবিরে আর কিছুই করার ছিল না।

নাহিদ রানার ভয়ঙ্কর সুন্দর সেই স্পেলেই উড়ে গেছে পাকিস্তান। তিন ম্যাচের সিরিজে জয় দিয়েই মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ। মাত্র ৫ ওভারের স্পেলে ৫ উইকেট! প্রতি ওভারে যেন একেকটি আঘাত। তাতেই পাকিস্তানের টপ ও মিডল অর্ডার ভেঙে পড়ে তাসের ঘরের মতো। ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারে নাহিদ যেন ভেসেছেন সপ্তম স্বর্গে। তার আগুনঝরা বোলিংয়ে বাংলাদেশ পেয়েছে বুকভরা আত্মবিশ্বাসের ৮ উইকেটের জয়।

শেরে বাংলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত অক্টোবরে সিরিজের শেষ ম্যাচে ৬ উইকেট দখল করেছিলেন লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। সেই মাঠেই এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা দুর্দান্ত বোলিং করে ৫ উইকেট শিকার করেছেন।

পাকিস্তানের ওয়াকার ইউনুসের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন নাহিদ রানা। তার টিপসগুলো কাজে লাগিয়ে এ অবস্থানে কি না। জানাতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওয়াকারের সাথে ওই সময়টা অবশ্যই একটি সেরা দিক। তিনি বলেছিলেন, গতির পাশাপাশি স্কিল ডেভেলপ জরুরি। তার চেয়ে জরুরি ফিট থাকা। একজন পেসার যত ফিট থাকবে, সে তত সার্ভিস দিতে পারবে। এখন আমার কথাগুলো তোমার আত্মস্থ হবে না। তুমি নিজে থেকে যতক্ষণ ফিল না করবা, ততক্ষণ পর্যন্ত কিছু হবে না। এর পরই মূলত নিজেকে তৈরি করার চেষ্টা করি। সবার আগে ফিট থাকা, তার পর অন্য কিছু।’

দলে তিন পেসার। মোস্তাফিজ, তাসকিন ও নাহিদ। তা ছাড়া পাকিস্তানি ব্যাটারদের বিপক্ষে পিএসএলে খেলেছেন, তাদের সম্পর্কে জানেন, দুর্বলতা জানেন। সেটি কি কাজে লেগেছে কি না। তা ছাড়া আপনি কি ভেবেছিলেন পাঁচ উইকেট পাবেন। জবাবে নাহিদ বলেন, মোটেই ভাবিনি উইকেটের কথা। আমি যখন বল করি, তখন নিজেকে নিয়েই ভাবি। কিভাবে বল করব, কোথায় করব। সামনে কে ব্যাট করছে, সে কি সেরা, অভিজ্ঞ, সেটি মোটেই ভাবি না। আমার সেরাটা দিতে হবে, প্রতিটি ডেলিভারিতে সেটিই ভাবি। গতির চেয়ে স্কিলটাই আমার কাছে প্রধান। ফিট থাকাটাও জরুরি। আমার প্রতিজ্ঞার সামনে উইকেট পেয়ে গেলে ভালো তো লাগেই।

এই পাঁচ উইকেট কাউকে উৎসর্গ করবেন কি না জানতে চাইলে উত্তরে বলেন, উৎসর্গ করার মতো কেউ নেই। তাই কাউকে উৎসর্গ করছি না।