ওসমানীর দেয়া সনদ থাকলেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি ফারুক আহমদ
Printed Edition
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রমাণ হিসেবে সেনাপ্রধান এম এ জি ওসমানীর স্বারিত সনদ থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি লোহাগাড়ার আনসার কমান্ডার মরহুম ফারুক আহমদ। জীবদ্দশায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি ও সম্মান না পাওয়ার বেদনা নিয়েই তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। এখন বাবার স্বীকৃতির দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তার সন্তানরা।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মরহুম ফারুক আহমদ বাবা-আবদুল হাকিম, চট্টগ্রামের বর্তমান লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তৎকালীন সশস্ত্রবাহিনীর প্রধান জেনারেল এম এ জি ওসমানী স্বারিত একটি সনদ যার ক্রমিক নং-১৩৩৫২৫, তাকে প্রদান করা হয়। তবুও নানা জটিলতায় তার নাম মুক্তিযোদ্ধার সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। লোহাগাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আকতার আহমদ শিকদার বলেন, ‘মরহুম ফারুক আহমদ ১ নম্বর সেক্টরে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাকে স্বীকৃতি না দেয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।’ একইভাবে যুদ্ধকালীন গ্রুপ কমান্ডার মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার দীনবন্ধু দেবনাথ লিখিতভাবে তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, ১৯৭২ সালে ফারুক আহমদ আনসার প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে যোগ দেন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রশিণ ও দায়িত্ব পালন করেন। অসুস্থতার কারণে ১৯৮০ সালে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর দীর্ঘদিন মানসিক অসুস্থতায় ভোগায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। ২০০৮ সালের ৬ মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ বাঙ্গালী বলেন, ‘ফারুক আহমদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রমাণ অকাট্য। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া তার ন্যায্য অধিকার।’