বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে জাকাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে
কাল শুরু চতুর্দশ জাকাত ফেয়ার
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে এক লাখ কোটি টাকা জাকাত সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে। এই অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হলে বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সাবেক সিনিয়র সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান এবং জাকাত ফেয়ারের অর্গানাইজিং কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) চতুর্দশ জাকাত ফেয়ার উপলে সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- সিজেডএমের প্রধান নির্বাহী ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। উল্লেখ্য, আগামী শনিবার রাজধানীর অফিসার্স কাবে চতুর্দশ জাকাত ফেয়ার অনুষ্ঠিত হবে। এ ফেয়ারের উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশের জনগণের মধ্যে একটি বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে জাকাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
সঠিকভাবে জাকাত প্রদান মানে শুধু অভাবীদের সহায়তা করা নয়, বরং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা, যাতে তারা ভবিষ্যতে দাতা হতে পারে। তিনি বলেন, দেশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি জাকাত আদায় হয়।
এখনো শাড়ি-লুঙ্গি দেয়ার প্রচলন বেশি। শাড়ি লুঙ্গিতে সমাজ বদলাবে না। এসবের পরিবর্তে একটা ভ্যানগাড়ি, ব্যবসার ব্যবস্থা করলে সমাজ পরিবর্তন হবে।
সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, চলতি বছর সিজেডএমের ৯০ কোটি টাকা জাকাত সংগ্রহের টার্গেট রয়েছে। সিজেডএম মেধাবিকাশে সবচেয়ে বেশি কাজ করে থাকে। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের সাড়ে ১৭ হাজার প্রথম বর্ষের শিার্থীদের চার হাজার টাকা করে ৩০ মাস জিনিয়াস উচ্চ বৃত্তি সহায়তা দেয়া হয়। এ বছরও বিশ্ববিদ্যালয়ের ও মেডিক্যাল কলেজের ৫০০ শিার্থীকে জিনিয়াস বৃত্তি দেয়া হয়েছে। সারা দেশে ৬০টির বেশি প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে চিকিৎসক-প্যারামেডিকসরা নিয়মিত সেবা দিচ্ছে, ওষুধও সরবরাহ করা হচ্ছে। সিজেডএমের ডায়ালাইসিস সেন্টারে মাসে ৬০ জন বিনামূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা পাচ্ছেন।
৩০ জন থ্যালাসেমিয়া রোগীকে চিকিৎসার দায়িত্বভার সিজেডএম পূরণ করছে। এ ছাড়া ১৫টি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা পরিচালনা করা হচ্ছে।
সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষকে ভোকেশনাল ট্রেনিং দিয়ে দ মানবসম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্টের নির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক মুনাওয়ার মিসবাহ মঈন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র সচিব আরাস্তু খান।