শীতকাল মুমিনের বসন্ত
Printed Edition
জাহিদ হাসান
ভৌগোলিক অবস্থানভেদে পৃথিবীতে শীত, বর্ষা, গ্রীষ্ম, শরৎ ও বসন্তসহ বিভিন্ন ঋতু আসে। এদের মোকাবেলা করতে মানুষ দুনিয়াবি ও বস্তুগত বিভিন্ন প্রস্তুতি নেয়। ঋতুর চাহিদা অনুযায়ী নিজের পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে পরিবর্তন আনে। বর্ষা এলে বৃষ্টি থেকে বাঁচার ব্যবস্থা করে, জরাজীর্ণ ঘর মেরামত করে; গ্রীষ্ম এলে হালকা পোশাক প্রস্তুত রাখে; আর শীতের আগমন হলেই উষ্ণ পোশাক, গরম বিছানা ও উষ্ণ খাবারের আয়োজন করে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনে।
প্রতিটি ঋতুর জন্য যেমনিভাবে আমরা নিজেদের প্রস্তুত করি, তেমনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, প্রতিটি পরিবর্তিত ঋতুতে দ্বীন ও আখিরাতের জন্য কী কল্যাণ নিহিত আছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। গ্রীষ্ম এলে তার মধ্যে কী দ্বীনি ফায়দা, শীত এলে তার মধ্যে কী দুনিয়া-আখিরাতের লাভ- এ দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে হবে। বিশেষ করে শীতকাল সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা:-এর হাদিসে বেশ কিছু ফজিলত ও উপকারিতা বর্ণিত হয়েছে :
হজরত আবু সাঈদ খুদরী রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেছেন-
‘শীতকাল মুমিনের জন্য বসন্ত। এর দিনগুলো ছোট, যাতে সে সহজে রোজা রাখতে পারে; আর রাতগুলো লম্বা, যাতে সে তাহাজ্জুদে দাঁড়িয়ে যায়।’ (আস-সুনানুল কুবরা, বায়হাকি)
হাদিসের ভাষ্য থেকে প্রতিভাত হয়, আখিরাতের পাথেয় জমা করার দৃষ্টিকোণ থেকে শীতকাল মুমিনের জন্য প্রকৃত বসন্ত। বসন্তে যেমন আবহাওয়া মনোরম থাকে, গাছপালা সজীব হয়ে ওঠে, চার দিকে রঙিন ফুলের সমারোহ আর সুবাস ছড়িয়ে পড়ে, প্রকৃতি যেন নিজ রূপের চরমে পৌঁছে যায়- ঠিক তেমনি শীতের দীর্ঘ রাত ও সংক্ষিপ্ত দিন মুমিনের জন্য আমলের সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয়। সে চাইলে এ মৌসুমে নিজের আমলনামার বাগানকে আমলের ফুলে ভরিয়ে দিতে পারে, রূহের আঙিনায় নেকির সুবাস ছড়িয়ে দিতে পারে, হৃদয়কে বরকতের আলোয় আলোকিত করতে পারে। উপরোক্ত হাদিসে শীতকালের সাথে বিশেষভাবে রোজা ও তাহাজ্জুদের নামাজের কথা উঠে এসেছে। রোজার ক্ষেত্রে হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘রোজা আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেবো।’ (বুখারি)
তাহাজ্জুদের সময় আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং অধিকহারে বান্দাদের দোয়া কবুল করেন।
তাই আমরা এই শীতের দিনগুলোতে রোজা রাখতে পারি, শীতকালের দিন ছোট হওয়ায় না ক্ষুধা বেশি লাগে, না তৃষ্ণা কষ্ট দেয়। আইয়্যামে বিজ, সোমবার ও বৃহস্পতিবারের ফজিলতপূর্ণ রোজাসহ এই সুবিধাজনক সময়ে রমজানের কাজা রোজাগুলোও আরামে আদায় করে নিতে পারি। আর এই রাতগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহার! এই দীর্ঘ রাতগুলো তিলাওয়াত, জিকির, দরূদ শরিফ, নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ আর বিশুদ্ধ দ্বীনি কিতাব পড়াশোনায় কাটিয়ে দিতে পারি।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এ মৌসুমের পুরোপুরি ফায়দা ওঠানোর তাওফিক দান করুন।
আমিন ইয়া রাব্বাল আলামিন।
লেখক : শিক্ষার্থী, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা