পাটগ্রামে আমন চাল সংগ্রহে চুক্তিবদ্ধ মিল চাতালের অধিকাংশের অস্তিত্ব নেই
Printed Edition
পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে অভ্যন্তরীণ আমন ধানের সিদ্ধ চাল সংগ্রহ অভিযানে চুক্তিবদ্ধ মিল চাতালের তালিকা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় প্রকাশিত তালিকায় যেসব মিল মালিকের নাম এসেছে, তাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মিল বহু বছর ধরে বন্ধ। এতে তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শুধু মিলিং লাইসেন্সধারী ও কার্যকর অবকাঠামোসম্পন্ন মিলকেই চুক্তিযোগ্য ধরা হয়েছে। যেসব মিলের বয়লার বা চিমনি নেই, কিংবা যেগুলো বহু বছর ধরে বন্ধ, তাদের সাথে কোনওভাবেই চুক্তি করার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে প্রধান বয়লার পরিদর্শকের সনদ বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব নিয়ম উপেক্ষা করে স্থানীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় গোপন লেনদেনের মাধ্যমে অস্তিত্বহীন বা অচল মিলের মালিকদের নাম তালিকায় যুক্ত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকৃতভাবে চাল উৎপাদনে সক্ষম মিল মালিকেরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবির পর তালিকা অবিলম্বে সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে মিল মালিকদের একটি অংশ।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৩৯টি মিলারের কাছ থেকে ৭৮১ মেট্রিক টন এবং একটি অটোমিল থেকে ৪৫৫ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। তালিকায় থাকা অটোমিলটি চালু থাকলেও বাকি মিলগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ। নেসকোর বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ১৮টি মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ গত এক বছরে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক মিল মালিক জানান, ‘আমার মিলের গেট লাইসেন্স ছিল; কিন্তু উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় নিজেই লাইসেন্স বাতিল করেছি। তারপরও কিভাবে আবার তালিকায় নাম ওঠে, বুঝতে পারছি না।’ স্থানীয় সূত্র জানায়, অতীতের মতো এবারো কেজিপ্রতি ৭৫ পয়সা ‘উপরির বিনিময়ে’ অচল মিলগুলো তালিকায় স্থান পেয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাসিম আল আকতার বলেন, ‘আমি সদ্য যোগদান করেছি। পরিস্থিতি বুঝতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে অস্তিত্বহীন মিল তালিকায় থাকার সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসিএফ) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘এটি চলমান তালিকা। কারো সক্ষমতা না থাকলে তদন্তসাপেক্ষে তাদের বাদ দেয়া হবে।’