পাবনা-৩ আসন

বিএনপির সমর্থক তিন ভাই বোনের ভিন্ন অবস্থান

Printed Edition

নূরুল ইসলাম চাটমোহর (পাবনা)

পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই পরিবারের তিন ভাই-বোন তিনটি ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থেকে নির্বাচনে ক্যাম্পেইন করছেন। এরা হলেন- চাটমোহর উপজেলা বিএনপির মরহুম নেতা হাজী আক্কাছ আলী মাস্টারের বড় ছেলে আলহাজ হাসানুল ইসলাম রাজা, তৃতীয় ছেলে মো: হাসাদুল ইসলাম হীরা এবং বড় মেয়ে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা, বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ মো: হাসানুল ইসলাম রাজা। ইতোমধ্যে তিনি পাবনা-৩ আসনে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা নিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে দল মনোনয়ন দিলে তিনি নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন।

এ দিকে চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র মো: হাসাদুল ইসলাম হীরা দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় বিএনপি ঘোষিত সব আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে এসেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে একাধিক মামলার শিকার এবং হাজতবাসও করেছেন। তিনি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালালেও কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে মনোনয়ন দেয়ায় তিনি নিজের প্রার্থিতার দাবিতে মশাল মিছিলসহ নানা আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু করেছেন।

অপর দিকে অ্যাড. আরিফা সুলতানা রুমা ৯০’-এর দশক থেকে ঢাকায় প্রথমে ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদল এবং পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। চাটমোহরের মেয়ে হিসেবে ইতোমধ্যে স্থানীয় রাজনীতিতেও তার একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। তিনি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে মনোনয়ন দিলে রুমা তাকেই সমর্থন দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে এলাকায় বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিন ভাই-বোন তিন মেরুতে অবস্থান করার কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে নানা প্রতিক্রিয়া ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। এ দিকে একই পরিবারের তিনজন ছাড়াও সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আলহাজ কে এম আনোয়ারুল ইসলামও পাবনা-৩ আসন থেকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল তাকে মনোনয়ন না দেয়ায় তিনি হাসাদুল ইসলাম হীরার সাথে যৌথভাবে কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া এবং ফরিদপুর উপজেলায় মোট ৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৬২ জন ভোটার রয়েছেন। এ আসনে ধানের শীষের বিরুদ্ধে স্থানীয় কোনো প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলে পাল্টে যেতে পারে সব হিসাব-নিকাশ। সে ক্ষেত্রে জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মো: আলী আছগর মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলে আসতে পারেন বলে দায়িত্বশীল মহল মনে করেন।