পাক-আফগান সঙ্ঘাতে বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া
Printed Edition
বিবিসি ও আলজাজিরা
সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান। তালেবানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে শুক্রবার ভোরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এই সংঘর্ষ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় জাতিসঙ্ঘসহ বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
জাতিসঙ্ঘ
জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তার মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিকের মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে গুতেরেস সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উভয় দেশকে আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান এবং চলমান সঙ্ঘাতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার ওপর জোর দেন।
ইরান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে সংলাপ ও সুপ্রতিবেশী নীতির মাধ্যমে সঙ্কট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পবিত্র রমজান মাসের কথা উল্লেখ করে সংযম ও ইসলামি সংহতির ওপর গুরুত্ব দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া বার্তায় তিনি বলেন, কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে ইরান প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
রাশিয়া
রাশিয়া অবিলম্বে সীমান্তে সব ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, মস্কো কূটনৈতিক উপায়ে সঙ্কট সমাধানের পক্ষে এবং উভয়পক্ষ সম্মত হলে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছে।
ভারত
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রন্ধির জয়সওয়াল পাকিস্তানের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রমজান মাসে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা নিন্দনীয়। তার ভাষায়, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করার আরেকটি চেষ্টা। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সাথে তালেবানের সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। এ দিকে ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা দুর্বল করতে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে সক্রিয় কিছু গোষ্ঠীকে ভারত অর্থায়ন করছে- যা নয়াদিল্লি অস্বীকার করেছে।
তুরস্ক
রয়টার্সকে তুর্কি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাঁকান ফিদান পাকিস্তান, আফগানিস্তান, কাতার ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে পৃথক ফোনালাপে চলমান সংঘর্ষ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
চীন
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে বেইজিং গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র মাও নিং বলেন, চীন নিজস্ব কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে এবং গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
পাকিস্তান
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবানকে সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ইসলামাবাদ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সরাসরি ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আমাদের ধৈর্যের সীমা শেষ। এখন এটি সরাসরি যুদ্ধ এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেয়া হবে।
আফগানিস্তান
আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, দেশটি ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করবে এবং আগ্রাসনের জবাব সাহসিকতার সাথে দেবে। তিনি পাকিস্তানকে নিজেদের নীতিতে পরিবর্তন এনে সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান।