ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

নীলফামারী-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জামায়াত-বিএনপি

Printed Edition
bangla-1
এ.এইচ.এম সাইফুল্লাহ রুবেল, আলফারুক আব্দুল লতীফ, এম হাছিবুল ইসলাম, সরওয়ারুল আলম বাবু, কামরুল ইসলাম

নীলফামারী প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নীলফামারী-২ আসনে পুরোদমে বইছে নির্বাচনী আমেজ। এই আসনে জামায়াত ও বিএনপিসহ অন্যান্য দলের একাধিক প্রার্থী না থাকায় একক প্রার্থীরা জোরেশোরে চালাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত করছেন উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ।

নীলফামারী-২ (সদর) আসনটি এ জেলার গুরুত্বপূর্ণ আসন। এই আসনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিনা ভোটের একবার সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও দুইবার এমপি ছিলেন নাট্য অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী জামায়াতের মনিরুজ্জামান মন্টুর বিজয়ের অপার সম্ভাবনা দেখে দুপুর ১২টার পর ভোটকেন্দ্র দখল করে নূরের নৌকা মার্কায় সিল মারতে শুরু করে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা। ফলে সময় সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে জামায়াত নির্বাচন বর্জন করে।

এবার এই আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও নীলফামারী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতীফ। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল প্রচারণায় নিঘুম রাত কাটাচ্ছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম হাছিবুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের জেলা শাখার সেক্রেটারি সরওয়ারুল আলম বাবু ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ডাক্তার কামরুল ইসলাম (দর্পণ) এই আসনের প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

দলীয় প্রার্থীরা প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত, করছেন উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ। যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। ভোটারদের শোনাচ্ছেন আশ্বাসের বাণী, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

বিএনপির প্রার্থী এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল বলেন, বিগত ছয়টি নির্বাচনে জোটের কারণে নীলফামারী-২ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী ছিল না। এবার দল আমাকে মনোনয়ন দেয়ার পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামগঞ্জে সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।

জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতীফ বলেন, এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। এ ছাড়া আমাদের পক্ষে এবার অমুসলিম ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে শতভাগ জয়ের আশা করেন তিনি।

সারারণ ভোটাররা মনে করছেন দীর্ঘদিন তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেনি। দিনের ভোট রাতে ও মৃত ব্যক্তির ভোটও ফ্যাসিস্টের দোসররা সিল মেরে দিয়েছিল। এখন ফ্যাসিস্ট নেই, এবার স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের ভোট পছন্দের প্রার্থীকে দিতে পারব। এলাকার উন্নয়ন ও বেকার সমস্যা সমাধানে যারা কাজ করবে তরুণদের প্রথম ভোট তাদের পক্ষে যাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় নীলফামারী-২ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে। তবে কে হবেন এই আসনের আগামীর কাণ্ডারি এজন্য ১২ ফেরুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।