ন্যায্য দাম ও হিমাগারের সঙ্কটে গলাচিপায় আলু চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক
Printed Edition
হারুন অর রশিদ গলাচিপা (পটুয়াখালী)
ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং হিমাগারের অভাবে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় হাজার হাজার মেট্রিক টন আলু ঘরে তুলতে পারছে না কৃষক। এতে লোকসানের আশঙ্কায় কৃষকদের মধ্যে আলু চাষে আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে প্রায় সাড়ে চার শ’ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হলেও ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩৬০ হেক্টরে। চলতি বছর ২০২৬ সালে আবাদ নেমে এসেছে মাত্র ২৬০ হেক্টরে। যদিও এ বছর ৩৬৫ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা অর্জন সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, গলাচিপার মাটি ও ভৌগোলিক পরিবেশ আলু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ১৯৮০-এর দশক থেকে এ অঞ্চলে আলু চাষ শুরু হয়ে একসময় ব্যাপক সাফল্যও পায়। বর্তমানে সদর ইউনিয়নের মুরাদনগর, বোয়ালিয়া ও চরখালী গ্রামে বেশি আবাদ হলেও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে উৎপাদিত আলু ধরে রাখা যাচ্ছে না। প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ২৫ টন আলু উৎপাদন হলেও হিমাগার না থাকায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করছেন। অনেক ক্ষেত্রে আলু মাঠেই পড়ে নষ্ট হচ্ছে। পাইকারি ক্রেতাদের আগ্রহও তুলনামূলক কম।
মুরাদনগর গ্রামের কৃষক জাকির জানান, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকায়, ফলে প্রতি বিঘায় পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।
এদিকে শ্রমিকদের মধ্যেও রয়েছে অসন্তোষ। আলু উত্তোলনকারী শ্রমিক আলো বেগম বলেন, একই সময় কাজ করেও পুরুষ শ্রমিকরা ৭০০ টাকা পেলেও নারীরা পান মাত্র সাড়ে ৩৫০ টাকা।
কৃষক আইয়ুব মিয়া বলেন, ‘এভাবে লোকসান হলে ভবিষ্যতে আলু চাষ করা সম্ভব হবে না। আমরা ন্যায্য দাম ও একটি হিমাগার চাই।’ তিনি জানান, গত বছর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার বলেন, গলাচিপায় উৎপাদিত আলু দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দেরিতে বাজারে আসে, ফলে দাম কম পাওয়া যায়। দ্রুত সংরক্ষণ ব্যবস্থা বা হিমাগার গড়ে তোলা না গেলে আলু চাষে আগ্রহ আরো কমে যাবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।