দর্শনায় ২ কেজি স্বর্ণ গায়েব, সীমান্তে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলোতে উত্তেজনা
Printed Edition
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার দর্শনা সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণচোরাচালানী চক্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ২ কেজি স্বর্ণ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্বর্ণবহনকারী লেবার রায়হান আলি (২৮) অপহরণের শিকার হন। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে রায়হানের পরিবার। যদিও পুলিশ ও বিজিবি বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
স্থানীয় গ্রামবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাস্তিপুর-ছয়ঘরিয়া-কামারপাড়া রুটে দীর্ঘদিন ধরেই স্বর্ণচোরাচালানকারীদের তৎপরতা চলছে। গত ২০ নভেম্বর জিরাট গ্রামের খাইরুল আলমের ছেলে রায়হান আলি প্রতিবেশী গ্রামের আকতারুল ইসলামের ছেলে নাজমুল ও আজগর আলির ছেলে বাবু মিয়ার কাছ থেকে প্রায় দুই কেজি স্বর্ণ নিয়ে চার-পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে সীমান্তে পৌঁছে দিতে বের হন। পথে স্থানীয় একটি স্কুলের সামনে থেকে দু’টি মোটরসাইকেলে করে একদল লোক তাকে অপহরণ করে। কিছু দূর গিয়ে তারা স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয় ও রায়হানের চোখ বেঁধে ফেলে রেখে যায়।
রায়হান জানান, ঘটনার পর তার মহাজনরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর কথা বলে তাকে পুনরায় তুলে নিয়ে যায়। গত ৫ ডিসেম্বর দর্শনার সাত-আটজন ব্যক্তি তার বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে তাকে ও তার বাবাকে পিটিয়ে জখম করে।
ঘটনার খবর পেয়ে দর্শনা থানা পুলিশ ৯৯৯ থেকে প্রাপ্ত বার্তা অনুসারে জিরাট গ্রাম পরিদর্শন করে। সাব-ইন্সপেক্টর আশিক জানান, স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগে দুষ্কৃতকারীরা রায়হান ও তার বাবাকে মারধর করেছে।
গ্রামবাসীর দাবি, স্বর্ণের মালিক নাজমুল, বাবু মিয়া ও বহনকারী রায়হানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব।
দর্শনা থানার ওসি (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ জানান, এ বছর দর্শনা এলাকায় তিন দফায় স্বর্ণসহ মোট ১৪ জনকে আটক করে বিজিবি থানায় সোপর্দ করেছে।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিজিবি ৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল হাসানও তদন্তের আশ্বাস দেন।
৩ ডিসেম্বর মাদক ও চোরাচালানবিরোধী জনসচেতনতা সভায় কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সীমান্তবাসীদের এ বিষয়ে সতর্ক ও সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান।