১২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা জাতীয় নাগরিক পার্টির

Printed Edition
back-3
এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নেতারা : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথম ধাপে ১২৫টি আসনে নিজেদের প্রাথমিক প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন এই তালিকা প্রকাশ করেন। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে এখনো পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘন করে অর্থের দাপট দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলে আসছি যে প্রার্থীদের খরচের হিসাব যেন যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে আদায় করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্রের মহড়া হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত উভয় দল থেকেই আমরা এই ধরনের পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখছি।’ বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় মাফিয়া ও ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়, তার ওপর নির্ভর করবে কমিশন কতটা সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় কাজ করছে। এনসিপির প্রার্থী তালিকা অন্তর্ভুক্তিমূলক, যেখানে নারী-পুরুষ, সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরু এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।’

নির্বাচন ‘গণভোট’ ও এনসিপির লক্ষ্য : আগামী নির্বাচনের তাৎপর্য তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এবারের নির্বাচনটা গণভোট। আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, বরং গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আসন নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য হলে আমরা কোনো জোটের সাথে যেতাম। গত সাত মাসে বিদ্যমান দলগুলো নিজেদের সংস্কার করতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং দলীয় এজেন্ডাকে প্রধান করে তোলায় এনসিপির জন্ম অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।’

সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন জানান, ‘মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরই এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে ঘোষিত প্রার্থীদের বিষয়ে তিনি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন, ‘আজ যে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করছি, তাদের বিষয়ে যদি কোনো অভিযোগ আসে, তবে সেটি তদন্ত করে প্রয়োজন হলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।’

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে অবস্থান : দ্বিতীয় ধাপের মনোনয়ন প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, বিএনপি ও জামায়াতের সংস্কারপন্থী বিদ্রোহীরা তাদের বিবেচনায় থাকবেন। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপে বিএনপির যারা বিদ্রোহী কিন্তু সংস্কারের পক্ষে এবং জামায়াতের যারা বিদ্রোহী, তাদেরকেও আমরা মনোনয়ন দেব।

অন্য দলের বিদ্রোহীরা যোগাযোগ করছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংখ্যাটা এই মুহূর্তে বলছি না, তবে অনেকেই যোগাযোগ করছেন। মাঠে আগুন জ্বলা বন্ধ হয়েছে মানে যোগাযোগ শুরু হয়েছে।’

১২৫ প্রার্থীর তালিকা: ১. পঞ্চগড়-১: মো: সারজিস আলম, ২. ঠাকুরগাঁও-২: মো: রবিউল ইসলাম, ৩. ঠাকুরগাঁও-৩: মো: গোলাম মর্তুজা সেলিম, ৪. দিনাজপুর-৩: আ হ ম শামসুল মুকতাদির, ৫. দিনাজপুর-৫: ডা: মো: আব্দুল আহাদ, ৬. নীলফামারী-২: ডা: মো: কামরুল ইসলাম দর্পণ, ৭. নীলফামারী-৩: মো: আবু সায়েদ লিয়ন, ৮. লালমনিরহাট-২: রাসেল আহমেদ, ৯. লালমনিরহাট-৩: মো: রকিবুল হাসান, ১০. রংপুর-১: মো: আল মামুন, ১১. রংপুর-৪: আখতার হোসেন, ১২. কুড়িগ্রাম-১: মো: মাহফুজুল ইসলাম, ১৩. কুড়িগ্রাম-২: ড. আতিক মুজাহিদ, ১৪. কুড়িগ্রাম-৩: ইঞ্জিনিয়ার মো: আবু সাঈদ জনি, ১৫. গাইবান্ধা-৩: মো: নাজমুল হাসান সোহাগ, ১৬. গাইবান্ধা-৫: ডা: আ খ ম আসাদুজ্জামান।

রাজশাহী বিভাগ : ১৭. জয়পুরহাট-১: গোলাম কিবরিয়া, ১৮. জয়পুরহাট-২: আবদুল ওয়াহাব দেওয়ান কাজল,৯. বগুড়া-৬: আব্দুল্লাহ-আল-ওয়াকি, ২০. চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২: মু: নাজমুল হুদা খান (রুবেল খান), ২১. নওগাঁ-১: কৈলাশ চন্দ্র রবিদাস, ২২. নওগাঁ-২: মো: মাহফুজার রহমান চৌধুরী, ২৩. নওগাঁ-৩: পরিমল চন্দ্র (উরাও), ২৪. নওগাঁ-৪: মো: আব্দুল হামিদ, ২৫. নওগাঁ-৫: মনিরা শারমিন, ২৬. নাটোর-২: আব্দুল মান্নাফ, ২৭. নাটোর-৩: অধ্যাপক এস এম জার্জিস কাদির, ২৮. সিরাজগঞ্জ-৩: দিলশানা পারুল, ২৯. সিরাজগঞ্জ-৪: দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী (প্রীতি), ৩০. সিরাজগঞ্জ-৫: মনজুর কাদের, ৩১. সিরাজগঞ্জ-৬: এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, ৩২. পাবনা-৪: অধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুল মজিদ।

খুলনা বিভাগ: ৩৩. মেহেরপুর-১: মো: সোহেল রানা, ৩৪. মেহেরপুর-২: অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, ৩৫. চুয়াডাঙ্গা-১: মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান, ৩৬. ঝিনাইদহ-১: অ্যাডভোকেট লাবাবুল বাসার (দয়াল বাসার), ৩৭. যশোর-৪: মো: শাহজাহান কবীর, ৩৮. মাগুড়া-২: মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, ৩৯. বাগেরহাট-২: মোল্যা রহমাতুল্লাহ, ৪০. খুলনা-১: মো: ওয়াহিদ উজ জামান, ৪১. খুলনা-২: ফরিদুল হক।

বরিশাল বিভাগ : ৪২. পটুয়াখালী-১: অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা, ৪৩. পটুয়াখালী-২: মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, ৪৪. ভোলা-১: অ্যাডভোকেট মো: জিয়াউর রহমান, ৪৫. বরিশাল-৪: আবু সাঈদ মুসা, ৪৬. বরিশাল-৫: মো: নুরুল হুদা চৌধুরী, ৪৭. ঝালকাঠি-১: ডা: মাহমুদা আলম মিতু, ৪৮. পিরোজপুর-৩: ড. মো: শামীম হামিদী।

ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ : ৪৯. টাঙ্গাইল-১: সাইদুল ইসলাম (শহীদ সাজিদের পরিবার), ৫০. টাঙ্গাইল-৩: সাইফুল্লাহ হায়দার, ৫১. টাঙ্গাইল-৫: মাসুদুর রহমান রাসেল, ৫২. টাঙ্গাইল-৭: খন্দকার মাসুদ পারভেজ, ৫৩. জামালপুর-৪: ডা: মো: মোশাররফ হোসেন, ৫৪. শেরপুর-১: ইঞ্জিনিয়ার মো: লিখন মিয়া, ৫৫. শেরপুর-২: খোকন চন্দ্র বর্মণ (আহত), ৫৬. ময়মনসিংহ-১: মো: আবু রেহান, ৫৭. ময়মনসিংহ-৩: কবি সেলিম বালা, ৫৮. ময়মনসিংহ-৫: মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, ৫৯. ময়মনসিংহ-৬: জাবেদ রাসিন, ৬০. ময়মনসিংহ-৭: অ্যাডভোকেট এ টি এম মাহবুব-উল-আলম, ৬১. ময়মনসিংহ-৯: আশিকিন আলম (রাজন), ৬২. ময়মনসিংহ-১১: তানহা শান্তা, ৬৩. নেত্রকোনা-২: ফাহিম রহমান খান পাঠান, ৬৪. নেত্রকোনা-৩: প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন সিদ্দিকী (শামীম), ৬৫. কিশোরগঞ্জ-২: আবু সাঈদ (সাঈদ উজ্জ্বল), ৬৬. কিশোরগঞ্জ-৩: শেখ খায়রুল কবির আহমেদ, ৬৭. মুন্সিগঞ্জ-১: আলী নেওয়াজ, ৬৮. মুন্সিগঞ্জ-২: মাজেদুল ইসলাম, ৬৯. ঢাকা-১: মো: রাসেল আহমেদ, ৭০. ঢাকা-৪: ডা: জাহিদুল ইসলাম, ৭১. ঢাকা-৫: এস এম শাহরিয়ার, ৭২. ঢাকা-৭: তারেক আহম্মেদ আদেল, ৭৩. ঢাকা-৯: ডা: তাসনিম জারা, ৭৪. ঢাকা-১১: মো: নাহিদ ইসলাম, ৭৫. ঢাকা-১২: নাহিদা সারওয়ার নিভা, ৭৬. ঢাকা-১৩: আকরাম হুসাইন, ৭৭. ঢাকা-১৫: মেজর (অব:) মুহাম্মদ আলমগীর ফেরদৌস, ৭৮. ঢাকা-১৬: আরিফুল ইসলাম আদীব, ৭৯. ঢাকা-১৭: ডা:. তাজনূভা জাবীন, ৮০. ঢাকা-১৮: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ৮১. ঢাকা-১৯: ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, ৮২. ঢাকা-২০: ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ, ৮৩. গাজীপুর-৬: ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল, ৮৪. নরসিংদী-১: মো: আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, ৮৫. নরসিংদী-২: সারোয়ার তুষার, ৮৬. নরসিংদী-৪: ডা: মো: মামুনুর রহমান জাহাঙ্গীর, ৮৭. নরসিংদী-৫: মো: নাজমুল হক সিকদার, ৮৮. নারায়ণগঞ্জ-৪: অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, ৮৯. নারায়ণগঞ্জ-৫: আহমেদুর রহমান তনু, ৯০. রাজবাড়ী-২: সাইয়েদ জামিল (জামিল হিজাযী), ৯১. ফরিদপুর-৩: সৈয়দা নীলিমা দোলা, ৯২. গোপালগঞ্জ-১: প্রলয় কুমার পাল, ৯৩. গোপালগঞ্জ-৩: মো: আরিফুল দাড়িয়া, ৯৪. শরীয়তপুর-১: মো: আব্দুর রহমান।

সিলেট বিভাগ: ৯৫. সিলেট-১: এহতেশাম হক, ৯৬. সিলেট-৩: ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ, ৯৭. সিলেট-৪: মো: রাশেল উল আলম, ৯৮. মৌলভীবাজার-৪: প্রীতম দাশ, ৯৯. হবিগঞ্জ-৪: নাহিদ উদ্দিন তারেক।

চট্টগ্রাম বিভাগ : ১০০. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি, ১০১. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩: মো: আতাউল্লাহ, ১০২. কুমিল্লা-৪: হাসনাত আবদুল্লাহ, ১০৩. কুমিল্লা-৬: নাভিদ নওরোজ শাহ, ১০৪. চাঁদপুর-১: আরিফুল ইসলাম, ১০৫. চাঁদপুর-২: ইসরাত জাহান বিন্দু, ১০৬. চাঁদপুর-৫: মো: মাহাবুব আলম, ১০৭. ফেনী-৩: মোহাম্মাদ আবুল কাশেম, ১০৮. নোয়াখালী-১: ব্যারিস্টার মো: ওমর ফারুক, ১০৯. নোয়াখালী-৫: অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, ১১০. নোয়াখালী-৬: আব্দুল হান্নান মাসউদ, ১১১. চট্টগ্রাম-৬: মহিউদ্দিন জিলানী, ১১২. চট্টগ্রাম-৮: মো: জোবাইরুল হাসান আরিফ, ১১৩. চট্টগ্রাম-৯: মো: রিয়াজুল আনোয়ার চৌধুরী সিন্টু, ১১৪. চট্টগ্রাম-১০: সাগুফতা বুশরা মিশমা, ১১৫. চট্টগ্রাম-১১: মোহাম্মদ আজাদ দোভাষ, ১১৬. চট্টগ্রাম-১৩: জুবাইরুল আলম মানিক, ১১৭. চট্টগ্রাম-১৪: মুহাম্মদ হাসান আলী, ১১৮. চট্টগ্রাম-১৫: আবদুল মাবুদ সৈয়দ, ১১৯. চট্টগ্রাম-১৬: মীর আরশাদুল হক, ১২০. কক্সবাজার-১: মো: মাইমুল আহসান খান, ১২১. কক্সবাজার-২: আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন, ১২২. কক্সবাজার-৪: মুহাম্মদ হোসাইন, ১২৩. খাগড়াছড়ি: অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা, ১২৪. রাঙ্গামাটি: প্রিয় চাকমা, ১২৫. বান্দরবান: মংসা প্রু চৌধুরী।