ভেবেছিলাম বিশ্বকাপ ট্রফিটা ছোট : জামাল
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশে এলো বিশ্বকাপ ফুটবলের ট্রফি। প্রথমবার ২০০২ সালে। এরপর ২০১৩, ২০২২ ও এবার। মানে গতকাল। কাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সর্বশেষ আর্জেন্টিনার অধিনায়কের হাতে ওঠা ট্রফিটি ছিল ঢাকায়। সন্ধ্যায় তা চলে যায়। বিশ্বকাপের স্পন্সর কোমল পানীয় কোকাকোলা। এই কোকাকোলার উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ট্রফি ট্যুরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে আসা। ৩ জানুয়ারি সৌদি আরব সফর দিয়ে শুরু হয় এবারের ট্রফি ট্যুর। ১৫০ দিনের এই ট্যুর শেষ হবে মেক্সিকোর আজটেক স্টেডিয়ামে। ১২ জুন এই আজটেক স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে ৪৮ দলের এবারের বিশ্বকাপের। বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ট্রফির সাথে এসেছেন ব্রাজিলের ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ডিফেন্ডার গিলবার্তো ডি সিলভা। গতকাল সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিলবার্তো সিলভার হাত ধরে ট্রফিটি বিমান থেকে নামানোর পর তা বরণ করে নেয়া হয়। সেখানে ফটোসেশন হয়। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার সাথে সেই ফটোসেশনে ছিলেন গিলবার্তো সিলভা। সেই ফটোসেশন শেষে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জামাল জানান, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম বিশ্বকাপ ট্রফিটা একটু ছোট। তবে সামনে থেকে দেখে বুঝলাম এটা বেশ বড়।’ যোগ করেন, ‘সত্যি বলতে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার অভিজ্ঞতাটা একদম জোশ। খোঁজ নিয়ে জানলাম এর ওজন প্রায় চার কেজি। পুরোটাই খাঁটি সোনা। অভিজ্ঞতাটা দারুণ ছিল।’ বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বাফুফের সভাপতি তাবিথ আওয়ালসহ অন্য কর্মকর্তারা। তারাও অংশ নেন ফটোসেশনে।
জামাল ভূঁইয়া বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব খেলেছেন বাংলাদেশ দলের হয়ে। তিনি যেখানে এই ট্রফি সামনা সামনি দেখে আবেগ আপ্লুত, তেমনি সাধারণ দর্শকরাও। যারা কোকাকোলার ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে এই ট্রফি দেখার সুযোগ পান। আগেও যখন এই ট্রফি বাংলাদেশে এসেছিল তখনো উৎসুক জনতার ভিড় ছিল। গতকালও এর ব্যতিক্রম ছিল না। একজন তো কোলের শিশুকে সাথে নিয়ে এসেছেন। ট্রফির সামনে ছবি তুলেছেন। বাংলাদেশ ক্যাপ্টেন মনে করেন, বাংলাদেশে এই ট্রফির আগমনটা বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ ফুটবলারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
জামাল ব্রাজিলের সমর্থক। ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের দৃশ্য দেখেছেন। তখন তার বয়স ছিল ১২ বছর। এই লাতিন দেশটির সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের ঘটনা দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বাংলাদেশ অধিনায়ককে। কাল গিলবার্তো সিলভার সামনেই জামাল জানান, আমি ছোট বেলা থেকেই ব্রাজিলকে ফলো করি। আমার প্রিয় খেলোয়াড় রোলানদো। আর দল হিসেবে ২০০২ সালের ব্রাজিল দলই আমার প্রিয়।’ তার স্বপ্ন ‘ডেনমার্ক যেন বিশ্বকাপ জেতে। তা না হলে যেন ব্রাজিলের হাতে ওঠে এই ট্রফি।’ গিলবার্তো সিলভা জানান, সত্যিকার বিশ্বকাপ ট্রফি বাংলাদেশে নিয়ে আসতে পারাটা অনেক বেশি প্রেরণাদায়ক। ট্রফিটি তরুণ প্রজন্মকে এবং যারা ফুটবলার হতে চায় তাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক বিষয়।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে এসেছিল বিশ্বকাপের রেপ্লিকা।