নেত্রকোনায় মগড়া নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ

Printed Edition
bangla-5
নেত্রকোনার মগড়া নদীতীর দখল করে স্থাপনা নির্মাণ : নয়া দিগন্ত

ফজলুল হক রোমান নেত্রকোনা

নেত্রকোনা শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া এক সময়ের প্রমত্তা মগড়া নদী এখন দখল আর দূষণের কবলে অস্তিত্ব সঙ্কটে। প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগের মধ্যেই নদীর তীরজুড়ে পাকা স্থাপনা নির্মাণের মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও তা টেকসই না হওয়ায় দখলকারীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে মগড়া নদীর করুণ চিত্র তুলে ধরা হয়। বক্তারা নদী দখলমুক্ত ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। এর আগে ২০২৩ সালেও একই ধরনের আলোচনায় নদী রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে বাস্তবে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের ছোটবাজার এলাকায় আগে বিআরএস রেকর্ডের ভিত্তিতে বহু স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও পরবর্তীতে একই স্থানে সিএস রেকর্ড দেখিয়ে আবারো উচ্ছেদের নোটিশ দেয়া হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অন্য দিকে মোক্তারপাড়া ও আশপাশের অভিজাত এলাকায় নদীর ওপর গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলো অক্ষত থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ দিকে মালনী রোডের পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় নদীর মাঝামাঝি অংশ দখল করে নতুন করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাটলী, মোক্তারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি শহরের দৈনন্দিন বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলার কারণে দূষণ পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

লঞ্চঘাট এলাকায় নদীর ওপর স্থাপনা নির্মাণকারী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি নিজের মালিকানা দাবি করলেও কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। ছোটবাজারের ব্যবসায়ী নাজমুশ সাহাদাদ বলেন, এক দিকে সাধারণ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, অন্য দিকে প্রভাবশালীদের স্থাপনা অক্ষত থাকছে, এতে বৈষম্যের অভিযোগ উঠছে।

জেলা নদী রক্ষা কমিটির সদস্য দেলোয়ার খান জানান, পারলা থেকে সাতপাই, ছোটবাজার, মোক্তারপাড়া, মালনী রোড হয়ে শিবগঞ্জ মসজিদ পর্যন্ত এলাকায় শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি নদীতীরে যানজটমুক্ত পরিবেশে হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে পরিবেশবিদরা মনে করছেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা ছাড়া মগড়া নদীকে দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। অন্যথায় নদীটি মানচিত্রে থাকলেও বাস্তবে তার অস্তিত্ব হারানোর আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।