স্থায়িত্বের আভাস দিয়ে পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনে বড় উত্থান

ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারে ঝুঁঁকছেন সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

মুনাফা তোলার বিক্রয়চাপের ধাক্কা সামলে দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়েছে লেনদেনের গতি।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েক দিনের অস্থিরতা কাটিয়ে গতকালের লেনদেন ছিল বেশ স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৫ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৬৫২ দশমিক ৮২ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। একই সাথে বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ এবং ডিএসই শরিয়াহ যথাক্রমে ৩ দশমিক ৬৭ ও ৩ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট বেড়েছে। অন্য দিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২৯ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট। সিএসইর অন্য দু’টি সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স-এরও যথাক্রমে ২০ দশমিক ৭৯ ও ৩১ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট উন্নতি হয়েছে।

সূচকের পাশাপাশি দুই বাজারেই লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। ডিএসইতে গতকাল এক হাজার ১১০ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে, যা বুধবারের তুলনায় ১৭০ কোটি টাকা বেশি। বুধবার ডিএসইতে লেনদেন ছিল ৯৪০ কোটি টাকা। সিএসইতে গতকাল লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৯৮ কোটি টাকায়, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৪০ কোটি টাকা বেশি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হুটহাট বড় ধরনের উত্থানপতন বাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের জন্য ক্ষতিকর। সেই তুলনায় গতকালের ধীর ও সাবলীল উন্নতি বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক। তবে বাজারে এখনো পুরোপুরি আস্থা ফেরেনি এবং কিছু গুজব সক্রিয় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাজার গতিশীল রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোকে দ্রুত তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া।

গতকালের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আবারো ভালো ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর দিকে ঝুঁঁকছেন। বিশেষ করে বিমা খাতে কমিশন বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার পর এই খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে। এ ছাড়া ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের লভ্যাংশের হার ভালো হওয়ায় এবং মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বিনিয়োগের অনুকূলে থাকায় এগুলো কম ঝুঁঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি চলায় বড় বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে দূরে ছিলেন, যা এখন কাটতে শুরু করেছে।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। দিনশেষে কোম্পানিটির ৪৬ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। ৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে দ্বিতীয় স্থানে ছিল আইপিডিসি। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ন্যাশনাল ফিড মিলস, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ব্র্যাক ব্যাংক ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।

ডিএসইতে গতকাল দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল প্রগতি ইন্স্যুরেন্স; কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। তালিকায় আরো ছিল গ্রীন ডেল্টা ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, আরামিট লি. ও প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স।

অন্য দিকে, গতকালও দরপতনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটি ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ দর হারিয়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন সীমানায় নেমে আসে। ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ দর হারিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিল ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। এ ছাড়া প্রিমিয়ার লিজিং, এফএএস ফিন্যান্স ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকও দরপতনের শীর্ষ তালিকায় ছিল।