বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়বহুল চিকিৎসায় বাধ্য রোগীরা

পাঁচ বছর ধরে বিকল সামেকের লেজার লিথোট্রিপসি মেশিন

Printed Edition

সাতীরা প্রতিনিধি

সাতীরা মেডিক্যাল কলেজ (সামেক) হাসপাতালে কিডনির পাথর অপসারণে ব্যবহারের জন্য কেনা কোটি টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক লেজার লিথোট্রিপসি মেশিনটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে মেশিনটি মেরামতের উদ্যোগ না নেয়ায় জেলার কিডনি রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়বহুল মাইক্রো সার্জারি বা পেট কেটে অপারেশনের মাধ্যমে কিডনির পাথর অপসারণ করতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোগীদের আধুনিক চিকিৎসাসেবা দিতে কিডনির পাথর অপসারণের জন্য লেজার লিথোট্রিপসি মেশিনটি কেনা হয়। মেশিনটির সাথে ছিল ভিডিও ইউরেটারো রেনোস্কোপ। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শরীর না কেটে বা বড় ধরনের অস্ত্রোপচার না করেই কিডনির পাথর ভেঙে ফেলা সম্ভব। এতে রোগীদের অপারেশনের ঝুঁকি কমে এবং সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে মেশিনটি সরবরাহ করা হয়। তবে প্রশিতি টেকনিশিয়ানের অভাবে দীর্ঘদিন মেশিনটি চালু করা যায়নি। পরে ২০২১ সালে এটি চালু করা হলে তৎকালীন অধ্য ডা: রুহুল কুদ্দুসের তত্ত্বাবধানে সাতজন রোগীর কিডনির পাথর ভেঙে ফেলে সফলভাবে চিকিৎসা করা হয়।

কিন্তু অষ্টম রোগীর চিকিৎসার সময় মেশিনের ভিডিও ইউরেটারো রেনোস্কোপে ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর লেজার লিথোট্রিপসি মেশিনটিও বিকল হয়ে পড়ে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত মেশিনটি আর চালু করা হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম মোড়ল বলেন, তার একটি কিডনিতে পাথর ধরা পড়ার পর সাতীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। তখন তাকে জানানো হয়, মেশিনটি চালু হলে এখানেই চিকিৎসা দেয়া হবে। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারেন মেশিনটি নষ্ট হয়ে গেছে। আব্দুল হাকিম বলেন, ‘পরে বাধ্য হয়ে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে অনেক টাকা খরচ করে মাইক্রো সার্জারির মাধ্যমে পাথর অপসারণ করতে হয়েছে।’

হাসপাতালে ভর্তি থাকা আরেক রোগী জানান, পরীার পর চিকিৎসক তাকে অপারেশনের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে মেশিনটি নষ্ট থাকায় পেট কেটে অস্ত্রোপচার করতে হবে বলে তাকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাইরের হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করলে অনেক টাকা লাগে। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা জোগাড় করা কঠিন।’

সামেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা: শরিফুল ইসলাম বলেন, লেজার লিথোট্রিপসি মেশিনটি চালু থাকলে অস্ত্রোপচার ছাড়াই অনেক রোগীর কিডনির পাথর অপসারণ করা সম্ভব হতো। এতে দরিদ্র রোগীরা সহজে চিকিৎসা পেতেন এবং বেসরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হতো না। তাই রোগীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত মেশিনটি চালু করা জরুরি। সামেকের সাবেক অধ্য ডা: রুহুল কুদ্দুস বলেন, ২০২১ সালে মেশিনটি চালু করার পর সাতজন রোগীর চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। অষ্টম রোগীর চিকিৎসার সময় ভিডিও ইউরেটারো রেনোস্কোপে ত্রুটি দেখা দিলে মেশিনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সেটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে সাতীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: মো: কুদরত-ই খোদা বলেন, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি জানতে পারেন মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল পড়ে আছে। বিষয়টি তিনি কয়েকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপকে জানিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, লেজার লিথোট্রিপসি মেশিনসহ হাসপাতালে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রপাতির বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও অবহিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে সাথে আবার আলোচনা করবেন বলেও আশ্বাস দেন।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক এই চিকিৎসা যন্ত্রটি অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় দ্রুত মেরামত বা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসক ও রোগীরা। তাদের মতে, মেশিনটি সচল হলে জেলার অসংখ্য কিডনি রোগী কম খরচে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবেন।