দুর্যোগে চুপ পাহাড়ের আঞ্চলিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠী, তৎপর সেনা-প্রশাসন

পার্বত্য চট্টগ্রামে হাজার কোটি টাকার চাঁদাবাজি

Printed Edition

এস এম মিন্টু

সম্প্রতি প্রবল বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা এবং ভূমিধসের কারণে রাঙ্গামাটিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পাহাড়ি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এমন ভয়াবহ দুর্যোগেও পাহাড়ে আঞ্চলিক দল ও সশস্ত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের দেখা মেলেনি। অভিযোগ রয়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বছরে হাজার কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে আসলেও টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর কল্যাণে কোনো সংগঠনই এগিয়ে আসেনি। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মানবিক সঙ্কটের মধ্যে এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী একাধিক ব্যক্তি গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো ও তথাকথিত মানবতার ধ্বজাধারী উপজাতীয় নেতাদের নির্লজ্জ নির্লিপ্ততা এই দুর্যোগে প্রকাশ পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উপজাতিভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন নিজেদেরকে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি ও অধিকার আদায়কারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসলেও, চলমান দুর্যোগে তাদের দৃশ্যমান অনুপস্থিতি নিয়ে ভুক্তভোগী মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ ফুটে উঠেছে। তবে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থা দিনরাত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শুকনো খাবার, রান্না খাবার, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ঢাকা থেকে মন্ত্রীরাও দুর্গত এলাকার মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এই দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারের সব বিভাগই মাঠে নেমে একযোগে কাজ করছে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা বর্ষণের ফলে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বহু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হলো বান্দরবানের বিলাইছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি ও রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে প্রায় চার হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। সাত হাজার ৬৪৬টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ছোট বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে ১৩৫টি। এ ছাড়াও এ যাবৎ পাহাড়ি ঢলে বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি সদর ও বিলাইছড়িতে মোট তিনজন ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছে। তাদের এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

আঞ্চলিক দল ও সশস্ত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা : একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বন্যা পরিস্থিতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান আঞ্চলিক দল বা সশস্ত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস, প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ এবং হিল উইমেনস ফেডারেশনের মতো সংগঠনগুলো সবসময় সরকার, প্রশাসন কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অপপ্রচার চালানোর মাধ্যমে সাধারণ উপজাতি জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন ইস্যুতে উসকানি দিয়ে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংগঠিত করে থাকে। কিন্তু এই দুর্দিনে সাধারণ উপজাতীয় জনগোষ্ঠী যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত ঠিক তখন এসব আঞ্চলিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ত্রাণ বা উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে যে, জেএসএস ও ইউপিডিএফ বিভিন্নভাবে বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে জোরপূর্বক বিপুল পরিমাণ চাঁদাবাজি করে থাকে। বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বছরে প্রায় এক হাজার কোটি থেকে চৌদ্দ শ’ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে থাকে। তবে এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের জন্য এই সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য আর্থিক বা মানবিক সহায়তার তথ্য চোখে পড়েনি।

স্থানীয় কয়েকজন ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী নয়া দিগন্তকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হাঁস-মুগগি, গরু, বা ফল সবজি থেকে শুরু করে সব কিছুতেই চাঁদা দিতে হয়। তারা চাঁদার টাকা ব্যয় করে অস্ত্র ক্রয়ে বা দলীয় বড় নেতাদের মনোরঞ্জনে। কিন্তু এক মহামারী বিপর্যয়ে তাদের দেখা মেলেনি। বিপদ কেটে গেলে তাদের দেখা মিলবে অস্ত্রহাতে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের : পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, সমন্বয় এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। যুগের পর যুগ ধরে নির্বাচন ছাড়াই প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ক্ষমতা ভোগ করা পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা বিভিন্ন সময়ে আঞ্চলিক পরিষদকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি অন্যান্য সরকারি সংস্থার সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে। কিন্তু চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ত্রাণ কার্যক্রম, জরুরি সমন্বয় সভা, ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি।

ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন : চাকমা সম্প্রদায়ের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে পরিচিত চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ও এই সঙ্কটে জনগণের পাশে না দাঁড়ানোয় ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছেন। বছরের পর বছর সাধারণ উপজাতীয় ও বিদেশী দাতা সংস্থার কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া এই এই সার্কেল চিফের বিরুদ্ধেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ রায় টংগা এনজিও ও ভিসিএফ প্রকল্পের নামে বিদেশীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা সাধারণ জনগণের সেবায় ব্যয় না করে নিজে লোভ লালসায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েছেন। স্বাভাবিক সময়ে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া উপজাতীয় ছেলে-মেয়েদের নিয়ে পার্বত্য এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিজের ব্যক্তিস্বার্থে সফর করতে দেখা গেলেও চরম দুর্যোগময় সময়ে গত ৮ জুলাই তাকে সন্তর্পণে রাঙ্গামাটি ত্যাগ করতে দেখা যায়। কিন্তু এ সময়ই সার্কেল চিফ হিসেবে সাধারণ উপজাতীয়রা তাকে পাশে চেয়েছিল। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উদ্দেশ্যে তার পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ্য মানবিক বার্তা বা সহায়তার ঘোষণা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেবাশীষ রায়কে নিয়ে স্বাধীনচেতা উপজাতীয়রা সমালোচনামূলক পোস্ট দিচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় ইয়ান ইয়ানের নীরবতা : পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় হিসেবে পরিচিত ইয়ান ইয়ানও এই দুর্যোগে কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করেনি বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার রক্ষার নামে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনার, পুরস্কারপ্রাপ্তি কিংবা দেশ নিয়ে বিষোদগার করতে দেখা যাওয়া ইয়েন ইয়েন বর্তমান দূর্যোগকালীন মুহূর্তে পুরো নীরব ভূমিকায়। তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে কাতারে অবস্থান করছেন। বন্যাকবলিত পাহাড়ি জনগণের জন্য কোনো মানবিক উদ্যোগ, তহবিল সংগ্রহ, আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য সমবেদনা বার্তাও তার কাছ থেকে এ পর্যন্ত দেখা যায়নি। তার বিরুদ্ধেও ব্যাপক অভিযোগের তীর পাহাড়বাসীর। বিভিন্ন সময়ে সরকার ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে বক্তব্য দেয়া, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে উপদেষ্টা হতে চেয়ে না পেরে অন্য ইস্যুকে সামনে এনে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে উপজাতি যুবকদের সাথে মিলে আন্দোলনের নামে হট্টগোল করতেও দেখা যায় তাকে। এ ছাড়া সংবিধান পরিপন্থী বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে পাহাড়িদের উসকে দেয়ার অভিযোগও তোলা হয় তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তিনি আন্তর্জাতিক মহলে নিজেকে সব উপজাতীয়দের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

উপজাতীয় নাগরিক সমাজের নির্লিপ্ততা : পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এবং তথাকথিত উচ্চ শ্রেণীর পাহাড়ি নেতাদের নিশ্চুপ ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আদিবাসী ফোরামের প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উপজাতীয় নাগরিক সমাজের গৌতম দেওয়ান ও নিরূপা দেওয়ান, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির জোরিতা চাকমা এবং হেডম্যান নেটওয়ার্ক অ্যাসোসিয়েশনের চিঙ্কু রোজাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে আসছেন। নিজেদের পাহাড়ি সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচয় দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজপথ গরম রাখার বিষয়ে তারা ছিলেন সবসময় সরব।

তারা প্রায়ই পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন, ভূমি সমস্যা, সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক আদিবাসী অধিকার, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সরকারি নীতির সমালোচনায় সরব থাকলেও, চলমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কোনো সমন্বিত মানবিক কর্মসূচিতে তাদের অংশ নেয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, তারা সবসময় সাধারণ পাহাড়িদের আবেগ কেনাবেচা করতেই ব্যস্ত।

উপজাতীয় এনজিওগুলোও অনুপস্থিত : পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশী অনুদানে পরিচালিত একাধিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে, যার মধ্যে ব্যারিস্টার দেবাশিষ রায় সংশ্লিষ্ট টংগা এনজিও কিংবা পল্লব চাকমা সংশ্লিষ্ট কাপেং ফাউন্ডেশন অন্যতম। এই সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও বন্যা পরিস্থিতিতে কোনো ত্রাণ বা মানবিক কার্যক্রমের তথ্য এ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতাদের কাছ থেকে উপজাতি জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা অনুদানপ্রাপ্ত এসব প্রতিষ্ঠান দুর্যোগের সময় কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

সনাতনী সংগঠনগুলোর অবস্থান : জাগো হিন্দু ফাউন্ডেশন, সনাতনী ঋষি আশ্রম, পূজা উদযাপন কমিটি এবং পূজা উদযাপন ফ্রন্টসহ বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনও চলমান দুর্যোগে কার্যত নিষ্ক্রিয় বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। সমালোচকদের মতে, বিভিন্ন সামাজিক বা ধর্মীয় ইস্যুতে এসব সংগঠন নিয়মিত বিবৃতি ও কর্মসূচি পালন করলেও, বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

হেডম্যান-কারবারি সমিতির ভূমিকা : পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত শাসনব্যবস্থার জন্য আন্দোলনকারী হেডম্যান-কারবারি সমিতিও এই দুর্যোগে দৃশ্যমানভাবে সক্রিয় নয় বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এই সংগঠন অতীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রবিধান ১৯০০ (যা সিএইচটি রেগুলেশন-১৯০০ নামে পরিচিত), পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, প্রথাগত আইন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দাবিতে নিয়মিত কর্মসূচি পালন করেছে। এমনকি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর অপসারণের দাবিতেও সাম্প্রতিক সময়ে তারা একাধিকবার প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু চলমান মানবিক সঙ্কটে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য তাদের কোনো সমন্বিত ত্রাণ কার্যক্রম বা জনসেবামূলক উদ্যোগের তথ্য পাওয়া যায়নি।