হামিদুর রহমান আযাদের মামলা

কক্সবাজার-২ আসনের নির্বাচনী নথি হেফাজতে নেয়ার নির্দেশ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-২ আসনে কারচুপির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে আবেদন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল বুধবার এ আসনের ব্যালট পেপার, ফল শিটসহ সব নথি হেফাজতে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। আবেদনকারীর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির।

ফারজানা রুপা ও শাকিলের জামিনের আদেশ ২৮ এপ্রিল

এ দিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক হত্যা মামলাসহ সাত মামলায় সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ২৮ এপ্রিল আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের এ দিন ধার্য করেন। আদালতে জামিনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আলামিন।

গতকাল বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট রাজধানীর আদাবর থানার গার্মেন্টস কর্মী রুবেল হত্যা মামলায় সাংবাদিক দম্পতিকে কারাগারে পাঠান আদালত। একই বছরের ২১ আগস্ট হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপাকে আটক করা হয়। পরদিন ২২ আগস্ট উত্তরা পূর্ব থানার ফজলুল করিম হত্যা মামলায় তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে গত ২৬ আগস্ট রুবেল হত্যা মামলায় তাদের আরো পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

ভার্চুয়াল কোর্ট প্রত্যাহার দাবিতে হুঁশিয়ারি

সপ্তাহে দুই দিন আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ ভার্চুয়ালি পরিচালনার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সুপ্রিম কোর্ট। মিছিল-সমাবেশ শেষে বৃহস্পতিবার থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আইনজীবীরা। আইনজীবী নেতারা বলেছেন, আজকের (বুধবার) মধ্যে কোর্ট ভার্চুয়ালি পরিচালনার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে আগামীকাল (আজ) থেকে কালো পতাকা মিছিলসহ লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে মিছিল শেষে সমাবেশে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান বিশ্বাস রায়হান, ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলামসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে ভার্চুয়ালি কার্যক্রম পরিচালনা বিচারের নামে প্রহসন। এটা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহের প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আদালত পরিচালিত হবে। প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন-২০২০ এবং সুপ্রিম কোর্টের জারি করা প্র্যাকটিস নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আদালত পরিচালিত হবে।

সপ্তাহের অন্যান্য কার্যদিবসে সশরীরে উপস্থিতির মাধ্যমে আদালত পরিচালিত হবে।