বিএসএফের গুলিতে লালমনিরহাট ও মৌলভীবাজারে ২ বাংলাদেশী নিহত

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে লালমনিরহাট ও মৌলভীবাজারে পৃথক ঘটনায় দুই বাংলাদেশী যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার গভীর রাত ও বৃহস্পতিবার বিকেলে সীমান্তবর্তী দু’টি স্থানে এসব ঘটনা ঘটে। উভয় ঘটনার পর বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নিহতদের লাশ ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।

পাটগ্রাম সংবাদদাতা জানান, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে গত বুধবার রাতে সবুজ ইসলাম (৩০) নামে এক বাংলাদেশী যুবক বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। তিনি জগতবেড় ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পঁচাভাণ্ডার গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় বাজারে মুদি দোকান পরিচালনা করতেন। দুই বছর আগে বিয়ে করা সবুজের এক বছরের একটি সন্তান রয়েছে।

বিজিবি ও এলাকাবাসী জানায়, ভারতের কোচবিহার জেলার ফুলকাডাবরী গ্রামের খালপাড়া এলাকার বিপরীতে পঁচাভাণ্ডার সীমান্তে সবুজসহ ৮-১০ জনের একটি দল ভারত থেকে গরু আনার চেষ্টা করছিল। এ সময় ভারতের ১৬৯ রাণীনগর বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চেনাকাটা ক্যাম্পের টহল দল কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলেই সবুজ মারা যায়। পরে বিএসএফ তার লাশ ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় দেশের ১০ জন করে প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষ থেকে সবুজকে গুলি করে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এবং দ্রুত লাশ ফেরতের দাবি জানানো হয়। বিজিবি ৬১ ব্যাটালিয়নের শমসেরনগর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কামাল উদ্দিন জানান, বিএসএফ জানিয়েছে সবুজের লাশ স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত শেষে ফেরত দেয়া হবে। বিকেল পর্যন্ত ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের আরেকটি পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছিল।

এ দিকে কুলাউরা সংবাদদাতা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে সুখিরাম উরাং নামে এক যুবক নিহত হন। তিনি মুরইছড়া বস্তির দাসনু উরাংয়ের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, কোনোরূপ উসকানি ছাড়াই বিএসএফ হঠাৎ গুলি করলে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন সুখিরাম। পরে তাকে উদ্ধার করে কুলাউড়া হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: জাকির হোসেন জানান, তার ডান পাঁজরের নিচে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। কুলাউড়া থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, লাশ থানায় এনে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিজিবি ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া জানান, ঘটনার খবর জানার পর ভারতীয় পক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে বিএসএফ প্রথমে গুলি চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করে। বর্তমানে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক চলছে। দু’টি ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।