রূপগঞ্জে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৮ জন আহত

Printed Edition

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে আটজন আহত হয়েছেন। এ সময় ছাত্রদলের কার্যালয়ের হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। গতকাল উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের হোড়গাঁও চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ মাওলা বিন মিজান গ্রুপের সাথে ছাত্রদল নেতা রাকিব হাসান গ্রুফের বিরোধ চলে আসছিল। সাজ্জাদ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের ঘনিষ্ঠ। অপরদিকে রাকিব হাসান অপর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আরেক নির্বাহী সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর অনুসারী।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটি দল ৮ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ অভিযোগ করে বলেন, বুধবার রাতে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় ৮ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল দোয়ার আয়োজন করে। সেখানে ছাত্রদল নেতা মাসুদও উপস্থিত ছিলেন। রাতেই প্রতিপক্ষ রাকিব হাসান ও তার লোকজন ওই কার্যালয়ে এসে কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের ছবি নামিয়ে কার্যালয় খালি করে দেয়ার জন্য বলে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাকিব হাসান, শাহাবুদ্দিন, নজরুল, মোশারফ, বাবু, আরিফ বকুলসহ ৩৫ থেকে ৪০ জনের একদল সন্ত্রাসী পিস্তল ও দারালো অস্ত্র নিয়ে ৮ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের কার্যালয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের ছবি ফেলে দিয়ে ভাঙচুর করে। শুধু তাই নয়, কার্যালয়ে থাকা টিভি ও আসবাবপত্রসহ মালামাল ভাঙচুর করে। বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাকেসহ সাজ্জাদ মাওলা বিন সিয়াম, জুবায়ের হোসেন, আব্দুল্লাহ, সায়েম, জুবায়ের শাহরিয়ার নাসিম ও গোলাম মাওলা নয়নকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিএনপির প্রতি দাবি জানান। ছাত্রদল নেতা রাকিব হাসান জানান, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ওই কার্যালয়ে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে গ্রামবাসী হামলা করেছে। ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত মোতাবেক ব্যবস্থ্া নেয়া হবে।