রাজাপুরে ৫ বছর ধরে ভাঙা আয়রন ব্রিজ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

Printed Edition

এনামুল হক রাজাপুর (ঝালকাঠি)

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বাদুরতলা গ্রামের মল্লিকবাড়ির সামনের খালের ওপর নির্মিত প্রায় ২৫ বছর আগের একটি আয়রন ব্রিজ পাঁচ বছর আগে ভেঙে পড়লেও এখনো সংস্কার হয়নি। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুপারি গাছের অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে পারাপার করছেন শতাধিক পরিবার ও আশপাশের সহস্রাধিক মানুষ। স্থানীয়ভাবে এটি ঘাটলাবাড়ির ব্রিজ নামেও পরিচিত।

সরেজমিন দেখা গেছে, লোহার স্ট্রাকচারের ওপর স্লাব বসিয়ে নির্মিত ব্রিজটির বেশিরভাগ অংশ খালে ধসে পড়েছে। স্লাব ও রেলিং নেই বললেই চলে; মরিচা ধরা কাঠামো কঙ্কালসার অবস্থায় পড়ে আছে। ভাঙা অংশে সুপারি গাছ দিয়ে নড়বড়ে সংযোগ তৈরি করা হলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এ ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন আফাজ উদ্দিন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এস এম আলম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬৫ নম্বর বাদুরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে যাতায়াত করে। স্থানীয়রা জানান, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে যানবাহন তো দূরের কথা, স্ট্রেচারেও পার করা যায় না। রাতে আলোর ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মালেক বলেন, ‘বাধ্য হয়ে সুপারি গাছ দিয়েছি। বাচ্চাদের কোলে নিয়ে পার হতে হয়। কেউ অসুস্থ হলে চরম বিপদ।’ গৃহবধূ রওশন আরা বেগম জানান, সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে প্রতিদিন দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।

বর্ষায় খালের স্রোত বেড়ে গেলে অস্থায়ী সাঁকো আরো পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। তাদের দাবি, বড় দুর্ঘটনার আগে দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা অভিজিৎ মজুমদার বলেন, ব্রিজটি এলজিইডির নির্মিত নয়; স্থানীয় উদ্যোগে তৈরি হওয়ায় সংস্কারের দায়িত্বও স্থানীয়দের। তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, গুরুত্বপূর্ণ এ সংযোগ সেতু ভেঙে পড়ে থাকলেও সরকারি উদ্যোগ কেন নেয়া হচ্ছে না?