তালের শঁাঁসের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গোলফল

Printed Edition
bangla 3
তালের শঁাঁসের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গোলফল

গোলাম রব্বানী কয়রা (খুলনা)

তালের শাঁসের বিকল্প হিসেবে সুন্দরবনের পামজাতীয় উদ্ভিদ গোলগাছের ফল (গোলফল) দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গোলপাতা (অ্যারিকাসিয়া গোত্রভুক্ত) একটি পামজাতীয় উদ্ভিদ, যার বৈজ্ঞানিক নাম নিপা ফ্রুটিক্যান্স (ঘুঢ়ধ ভৎঁঃরপধহং)। এটি বাংলাদেশের ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের স্বল্প ও মধ্যম লবণাক্ত পানি ও কর্দমাক্ত এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই জন্মে।

সুন্দরবনের উপকূলীয় মানুষের কাছে পরিচিত এ গোলফল এখন গ্রাম পেরিয়ে শহরেও চলে আসছে, কদর পাচ্ছেও বেশ। সুন্দরবনের উপকূলজুড়ে বিস্তৃতভাবে দেখা যায় গোলপাতা গাছ। বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে জেলে ও বাওয়ালিরা সুন্দরবনের ভেতর থেকে গোলপাতা সংগ্রহ করেন। এসব পাতা সাধারণত ঘরের ছাউনি ও বেড়া নির্মাণে ব্যবহৃত হয়। পাতা সংগ্রহের সময় শখের বশে লোকালয়ে আনা গোলফল দ্রুতই উপকূলজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে সুন্দরবনে আগত পর্যটকদের হাত ধরে এ ফল শহরের মানুষের কাছেও পরিচিতি লাভ করে।

সুন্দরবনের পশ্চিমাংশে প্রায় সর্বত্রই গোলপাতা গাছের দেখা মেলে। খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকা ও উপকূলীয় চরাঞ্চলে এ গাছের বিস্তৃতি চোখে পড়ার মতো। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীভাঙন, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে কয়রা উপজেলায় লবণাক্ততার মাত্রা আরো বেড়েছে। ফলে ‘লবণাক্ততায় অসহনশীল তালগাছের’ সংখ্যা কমলেও তুলনামূলকভাবে ‘লবণাক্ততায় সহনশীল গোলপাতা’ গাছের আধিক্য বেড়েই চলেছে।

বর্তমানে সুন্দরবনের ওই অঞ্চলে বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় ও ঘেরের পাড়েও গোলপাতা গাছ দেখা যাচ্ছে। কয়রার আমাদি, মহেশ্বরীপুর, বাগালী, মহারাজপুর, কয়রা সদর, উত্তর ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের শাকবাড়িয়া এলাকা এবং কপোতাক্ষ নদীর চরাঞ্চলে এ গাছের ব্যাপক উপস্থিতি চোখে পড়ে।

গোলপাতা গাছের পাতার ভেতর থেকে মোচা আকারে ফুল বের হয়। সেই ফুল থেকেই তালের কাঁদির মতো দৃষ্টিনন্দন ফলের কাঁদি তৈরি হয়। প্রতিটি গাছে সাধারণত পাঁচ থেকে সাতটি বা তারও বেশি কাঁদি থাকে এবং প্রতিটি কাঁদিতে ৫০-৮০টি ফল ধরে। শক্ত খোসা ছাড়িয়ে অপরিপক্ব অবস্থায় নরম সাদা অঁাঁটি খাওয়া হয়, যা স্বাদ ও ঘ্রাণে অনেকটা তালের শাঁসের মতো।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তালের শাঁসের চেয়েও গোলফল বেশি পুষ্টিকর। তাদের বিশ্বাস, এটি শরীরের বিভিন্ন ব্যথা উপশমে সহায়ক, ডায়াবেটিস ও চর্মরোগের জন্য উপকারী এবং মুখের অরুচিভাব দূর করে। এ ছাড়া এ ফল খেলে শরীর ঠাণ্ডা অনুভূত হয়।

এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: সুজিত কুমার বৈদ্য বলেন, গোলপাতা গাছের ফল চর্মরোগের জন্য উপকারী এবং মুখের অরুচি ভাব দূর করতে সহায়ক। তবে একসাথে অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।