আগডুম বাগডুম কবতাি গুলি
Printed Edition
মাঘের বীর
আসাদুজ্জামান খান মুকুল
মাঘের শীতে বাঘে কাঁপে ডরে
খোকন সোনা বাইরে খেলা করে
লেপ-কাঁথা সব তুড়ি মেরে ফেলে
সাহস নিয়ে দুয়ারখানি মেলে।
হিমেল হাওয়া দিচ্ছে বেগে পাড়ি
শীতের সাথে খোকন নিলো আড়ি
ভয় না পেয়ে বুকটা উঁচু করে
একাই সে যে দাপটে যায় লড়ে।
শীত বুড়োকে মাঠের ওপার তাড়ায়
বিজয় নিশান আকাশ পানে বাড়ায়
গরম পিঠা মহানন্দে শেষে
খাচ্ছে খোকা মধুর হাসি হেসে।
শীত সভ্যতা
গিয়াস হায়দার
বছর ঘুরে ফিরে আসে শীতের আনাগোনা
কাঁপছে শীতে দাদা দাদু আরো ছোট্ট সোনা
কুকুর বিড়াল কাঁপছে শীতে কাঁপছে অনাথ শিশু
যাদের আছে ভূরি ভূরি দয়ার দানে মিশু।
হরেক রকম জামা কাপড় গায়ে গায়ে শোভা
ঢাকনা খোলা নাচনেওয়ালি সভ্যতারই ডোবা
সভ্য করে সভ্য শিখায় কঠিন শীতের তেজে
শাকসবজি খেতে মজা শুকনো তেলে ভেজে।
চতুর্দিকে ঠাণ্ডা হাওয়া মাঠে-ঘাটে ফাঁকা
সভ্যতারি চাদর ঢাকা দারুণ ছবি আঁকা।
অতিথি পাখি
শাকেরা বেগম শিমু
শীতের পাখি ডানামেলে
কোথায় উড়ে যাও?
সোনাফলা বাংলাদেশের
সবুজ-শ্যামল গাঁও।
এমন দিনেও আমরা যেথায়
থাকতে পারি সুখি
সূর্যিমামার মুখটা দেখে
হাসে সূর্যমুখী।
সেই দেশটার স্নিগ্ধ সকাল
সোনা-রোদে মাখা
সোনার রবির কিরণ পেয়ে
উষ্ণ হবে পাখা।
যেথায় তাজা মৎস্য-পোকা
সবই যাবে পাওয়া
এমন শীতে তাইতো সোনার
বাংলাদেশে যাওয়া।
রসের হাঁড়ি
মাহফুজ রুমান খান
শীতের মাঝে
সকাল সাজে
হাঁটছি পুরো পাড়া
সবাই মিলে
খোঁজছি বিলে
খেজুর গাছের ধারা।
ক’দিন থেকে
রসগুড় খেতে
ইচ্ছে জাগে ভীষণ
একই সাথে
পথে পথে
চলছে আওয়ার মিশন
রসের হাঁড়ি
মিষ্টি ভারি
মন উতলা সবার
শেষের প্রান্ত
বড্ড ক্লান্ত
পেয়েই করলাম সাবাড়।
শীতের মুড়ি
এ কে আজাদ-এর দুটি ছড়া
শীতের দিনে মিষ্টি রোদে
গাঁয়ের বাড়ির উঠোনে
মজা করে খেতে বন্ধু
খই মুড়ি দুই মুঠো নে।
মুড়ির সাথে এক কামুড়ে
কাঁচা লঙ্কা মিলে নে
খেজুর গুড়ের পাটালিতে
অমৃত স্বাদ গিলে নে।
২. শীতের কাঁপানি
ভীষণ রকম শীত পড়েছে
ইস কি ভীষণ কাঁপানি,
তার উপরে আছে দাদুর
বুকের ভেতর হাঁপানি,
তাই তো দাদু ঘন ঘন
লং দিয়ে খান চা পানি।
কড়া শীত
সৈয়দ আহম্মেদ সাদি
শীত পড়েছে কড়া এবার
শীত পড়েছে শীত
শীতের ভয়ে খোকাখুকু
লেপের তলে চিৎ।
রবি মামা রাগ করেছে
দেয় না ভোরে রোদ
শীত প্রবাহ নিচ্ছে এবার
কঠিন প্রতিশোধ।
খেজুর গুড়ের মিষ্টি গন্ধ
পাগল করে মন
হিম কুয়াশায় ঢেকে গেছে
গাছগাছালির বন।
সর্ষে ফুলের হলুদ রঙে
সাজলো এবার মাঠ
লঞ্চ ছাড়ে না শীতের ভয়ে
ঢাকার সদরঘাট ।
ছানা আর নানা
কোমল দাস
বলল ব্যাঙের ছানা
বাইরে চলো নানা
বাইরে গিয়ে ইচ্ছে মতো-
আজকে খাবো খানা।
নানা বলেন, হায়!
বাইরে যাওয়া দায়
হাড়কাঁপানো এমন শীতে-
বাইরে কি কেউ যায়?
সর্দি হবে এতে
পরে যেও খেতে
বেশি শীতে অকারণে-
হয় না বাইরে যেতে।
শীত
শেখ সজীব আহমেদ
শীত পড়েছে শীত পড়েছে
ভীষণ শীত আজ
চারিদিকে দেখি শুধু
কুয়াশার সাজ।
রোদের আলো খুঁজি সবাই
কোথায় আলো?
হাড়কাঁপানো এই শীতে কেউ
নেই যে ভালো!