ইসিতে শুনানির দ্বিতীয় দিন

মান্না মুবিন মুজিবসহ ভোটের মাঠে ফিরলেন আরো ৫৮ জন

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্তকরণে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে নতুন করে ৫৮ জন নির্বাচনী মাঠে ফিরেছেন। এতে দুই দিনে মোট ১০৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে পূর্ণ কমিশনের উপস্থিতিতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিনে শুনানির জন্য নির্ধারিত ছিল ৭০টি আপিল। শুনানি শেষে ৫৮ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা, ছয়জনের আপিল খারিজ এবং সাতজনের আবেদন অপেক্ষমাণ ঘোষণা করা হয়।

মান্না, জামায়াত ও জাপার প্রার্থীদের প্রত্যাবর্তন

ইসির জনসংযোগ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দু’জন এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধতা পায়।

এ ছাড়া শনিবারের অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: মহিউদ্দিনের আপিলও রোববার মঞ্জুর করা হয়েছে।

জামায়াতের ক্ষেত্রে- চাঁদপুর-২ আসনের মো: আবদুল মুবিন, জামালপুর-৩ আসনের মো: মুজিবুর রহমান আজাদীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে যশোর-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের আপিল ক্রেডিট কার্ড বিল বকেয়ার অভিযোগে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ১৬ জানুয়ারি পুনঃশুনানি হবে।

কেন বাতিল হয়েছিল মনোনয়ন?

রিটার্নিং কর্মকর্তারা যেসব কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন ভোটারের ১ শতাংশ স্বাক্ষরে অসঙ্গতি, দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ, ঋণ খেলাপি ও বিল খেলাপি থাকা ও তথ্য গোপন বা কাগজপত্রে ত্রুটির জন্য প্রার্থিতা বাতিল হয় ইসির আপিল শুনানিতে এসব বিষয় আবার যাচাই করে অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়া হচ্ছে।

সামগ্রিক চিত্র : কতজন বাদ, কতজন ফিরছেন?

দেশজুড়ে রিটার্নিং কর্মকর্তারা মোট ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। এর বিরুদ্ধে পাঁচ দিনে ৬৪৫ জন প্রার্থী আপিল করেন। আপিল শুনানি চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

এখন পর্যন্ত দুই দিনে মোট আপিল শুনানি : ১৪০টি, বৈধ ঘোষিত : ১০৯ জন এবং বাতিল ও অপেক্ষমাণ : অবশিষ্ট। এতে ধারণা করা হচ্ছে, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রার্থী ফের যুক্ত হবেন।

সামনে কী আছে?

সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী ১৮ জানুয়ারি : আপিল নিষ্পত্তি, ২০ জানুয়ারি : প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন, ২১ জানুয়ারি : প্রতীক বরাদ্দ ও চূড়ান্ত তালিকা, ২২ জানুয়ারি : নির্বাচনী প্রচারণা শুরু, ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০ : প্রচারণা শেষ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি : ভোটগ্রহণ (সকাল ৭:৩০-বিকেল ৪:৩০)।

আজ সোমবার ১৪১ থেকে ২১০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

আপিলে বেশি বৈধতা- ইসির বার্তা কী?

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, বিপুলসংখ্যক প্রার্থীকে আপিলে বৈধ ঘোষণা করার অর্থ ১. রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত কঠোরতা ছিল। অনেক ক্ষেত্রে কারিগরি ত্রুটি বা ছোটখাটো অসঙ্গতির কারণে প্রার্থিতা বাতিল হয়েছিল, যা আপিলে সংশোধন হচ্ছে। কমিশন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে চায়। বেশিসংখ্যক প্রার্থী মাঠে থাকলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক বৈচিত্র্য বাড়ে। বিরোধী ও ছোট দলগুলোর মাঠে ফেরার সুযোগ বাড়ছে মান্না, জামায়াত ও জাপার প্রার্থীদের ফিরে আসা নির্বাচনী প্রতিযোগিতা বাড়াবে। আইনি ও প্রশাসনিক সক্ষমতার পরীক্ষা। একসাথে শত শত আপিল নিষ্পত্তি করা ইসির জন্য একটি বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ।

এর রাজনৈতিক তাৎপর্য হলো নাগরিক ঐক্য ও জামায়াতের প্রার্থীদের প্রত্যাবর্তন বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উপস্থিতি জোরালো করছে। বিএনপি ও অন্যান্য দলের জন্য এটি প্রতিযোগিতা বাড়াবে। ভোটারদের সামনে এবার বেশি বিকল্প ও ভিন্ন রাজনৈতিক মেরু দৃশ্যমান হবে।