লালমোহনে স্মার্টফোনে জুয়ার আসর পদক্ষেপ নেই প্রশাসনের
Printed Edition
মাকসুদুর রহমান পারভেজ লালমোহন (ভোলা)
দ্বীপ জেলা ভোলার লালমোহন উপজেলায় এখন স্মার্টফোনে লুডু খেলার নামে চলছে জুয়ার আসর। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের লুডু কিং অ্যাপ ব্যবহার করে দিন-রাত চলছে এই ডিজিটাল জুয়া, যার ফলে ছাত্র ও যুবসমাজ দিন দিন ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। গ্রামগঞ্জের অলি-গলি, চায়ের দোকান, এমনকি রাস্তার মোড়েও দেখা মিলছে এসব জুয়ার আসরের।
সরেজমিন জানা গেছে, স্মার্টফোনে লুডু কিং নামক সফটওয়্যার ইনস্টল করে সর্বোচ্চ আটজন মিলে এ খেলা খেলতে পারে। দুই ধরনের পদ্ধতিতে খেলা যায়- একটি অনলাইনের মাধ্যমে, অপরটি এক সাথে বসে। তবে এক সাথে চারজন মিলে বসে খেলার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এই জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত জুয়ার আসর বসছে এবং লাখ লাখ টাকা হাতবদল হচ্ছে। ধলীগৌরনগরের পাটাওয়ারীর হাট সংলগ্ন মোল্লার খাল এলাকা, ইউসুফ ও ফিরোজের নেতৃত্বে নুরুল্লা বাজার সংলগ্ন বেড়ির পাড়, তেগাছিয়া মালেক হাওলাদার বাড়ি সংলগ্ন খাল পাড় ও বাগান, পশ্চিম চরমোল্লাজী গ্রামের মুজাম্মেল মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন বাগান ও খাল পাড়ে নিয়মিত এসব জুয়ার আসর বসছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালান তিনি। এক সময় তিনি তাসের মাধ্যমে জুয়া খেলতেন। পরে তাস ছেড়ে মোবাইল ফোনে লুডু কিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে জুয়া খেলেন। খেলতে খেলতে এক সময় এমন নেশা হয়ে যায় যে শেষ পর্যন্ত আয়ের একমাত্র উৎস মোটরসাইকেলটিও ঋণের কারণে বিক্রি করে দিতে হয়েছে। এখন তিনি বেকার। তার মতো এমন অনেকেই আছেন সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন। রমাগঞ্জ ও ধলীগৌরনগর এলাকার কয়েকজন স্কুল শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন মহল জানান, ছাত্র ও যুবকরা এখন ধ্বংসের পথে। মোবাইল ফোনে এখন কথা হয় না, চলে জুয়া খেলার আড্ডা। শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া বাদ দিয়ে বসে বসে মোবাইলে জুয়া খেলে। জমজমাট আড্ডায় জমায় জুয়ার। প্রশাসন যদি মোবাইলে জুয়া খেলা বন্ধের ব্যাপারে কঠোর না হয়, তা হলে এই যুব ও ছাত্রসমাজ ধ্বংসের দিকে চলে যাবে।
লালমোহন প্রেস ক্লাবের সাহিত্য ও ম্যাগাজিন সম্পাদক সাংবাদিক ও কবি মো: নুরুল আমিন বলেন, এসব জুয়াড়ি যখন সর্বস্ব হারিয়ে ফেলেন, তখন তারা সামাজিক নানা অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। অনেকের পরিবারে কলহ-বিভেদ সৃষ্টি হয়। তাই এ ধরনের জুয়া বন্ধ করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করা উচিত।
এ ব্যাপারে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: অলিউল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমরা সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে এ ধরনের জুয়াড়িদের ব্যাপারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।