একদিনেই শরিয়া আইন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়

ইসলামী আন্দোলন সরে যাওয়ায় নির্বাচনে প্রভাব পড়বে না : মামুনুল হক

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী আন্দোলনের সাথে আসন সমঝোতার আর কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, তবে রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন সরে যাওয়ায় নির্বাচনে তেমন প্রভাব পড়বে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গতকাল জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে তিনি জামায়াতের নায়েবে আমির ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

মামুনুল হক বলেন, শুরু থেকে যে প্রক্রিয়ায় আসন বণ্টন হয়েছে, ইসলামী আন্দোলন না আসায় সমঝোতার ভিত্তিতে একই প্রক্রিয়ায় বাকি ৪৭ আসন বণ্টন হবে। যে আসনে যে দলের প্রার্থীকে সবচেয়ে শক্তিশালী মনে করা হবে, তাকেই একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, সমঝোতা হওয়া আসনগুলোতে যে দলের প্রার্থী থাকবে, তিনি বাদে বাকিরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। ঐক্যবদ্ধভাবে সেটি প্রত্যাহার করা হবে। ১৯ জানুয়ারির আগে অন্য কোনো কিছুর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনের পরে তারা ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ধরে নিয়েই ১০ দল কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে।

এক সাংবাদিক জানতে চান, ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে ১০ দলের মধ্যে থাকা ইসলামপন্থী দলগুলো ঠিক পথে আছে কি না, এমন প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আপনারা ঠিক পথে আছেন কি না? জবাবে মামুনুল হক বলেন, তাদের দল ঠিক পথেই আছে। সবার অনুভূতি এক হয় না। অন্যের অনুভূতিকে শ্রদ্ধা জানায় তার দল।

শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন না থাকার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ষড়যন্ত্র আছে, এমনটা মনে হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে একসাথে নির্বাচন করতে না পারাকে নিজেদের ব্যর্থতা বলেই ধরে নেয়া যায়।

আরেক সাংবাদিক জানতে চান, ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছিল, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন প্রচলন করবে না, এর ব্যাখ্যা কীভাবে দেবেন? জবাবে মামুনুল হক বলেন, জামায়াত আমিরের কথার মূল অর্থ হলো, যে প্রক্রিয়ায় বর্তমানে দেশ চলছে, নির্বাচন হচ্ছে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্য দিয়ে রাজনীতির ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় এক দফার মধ্য দিয়ে হঠাৎ করে একদিনেই শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, সেটিই জামায়াত আমির বলেছেন। এই কথার মধ্যে কোনো অসঙ্গতি নেই।

ইসলামী আন্দোলন সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কি না জানতে চাইলে মামুনুল হক বলেন, সম্মিলিতভাবে ঐক্যের প্রতি মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই অঙ্গীকার থেকে সরে যায়নি দলগুলো। তাই খুব বেশি প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না। জোটের ভেতরে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।