চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ফ্লাইওভারসহ ৪ বাইপাস নির্মাণ প্রকল্পের নকশা চুক্তি

ব্যয় ধরা হয়েছে ৮,৫৫৬ কোটি টাকা

Printed Edition
3rd-1
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ফ্লাইওভারসহ ৪ বাইপাস নির্মাণ প্রকল্পের নকশা চুক্তি

পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ও এশিয়ান কানেক্টিভিটি জোরদারের লক্ষ্যে ভারত, মিয়ানমার ও চীনের সাথে আধুনিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প এক ধাপ এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ট্রাফিক ভলিউম নিয়ন্ত্রণে ছয় লেনের আদলে চারটি বাইপাস ও একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের নতুন নকশা প্রণয়ন চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাপানের নিপ্পন কোই কোং লিমিটেডের নেতৃত্বে জয়েন্ট ভেঞ্চারের মাধ্যমে ছয়টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নতুন নকশা প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করবে। নকশা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ অগ্রগতি হলো।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় এই অংশে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি ১৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর মধ্যে জাইকার প্রকল্প সহায়তা ৫ হাজার ৭০৯ কোটি ১১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ২ হাজার ৮৪৭ কোটি ৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শ্যামল ভট্টাচার্য জানান, চলতি মাসের ১২ জানুয়ারি নতুন নকশা প্রণয়নের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ করে মূল নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোট ২৫ দশমিক ২৭ কিলোমিটার অংশ উন্নয়ন করা হবে। এর মধ্যে পটিয়া, দোহাজারী, লোহাগাড়া ও চকরিয়ায় ৬ লেনের আদলে চারটি বাইপাস এবং সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। বাইপাসগুলোর দৈর্ঘ্য হবে- পটিয়া ৫ দশমিক ৭২ কিলোমিটার, দোহাজারী ৩ দশমিক ৫১ কিলোমিটার, লোহাগাড়া ৪ দশমিক ২৫ কিলোমিটার ও চকরিয়া ৭ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার। কেরানীহাট ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার।

এর আগে একই প্রকল্পের আওতায় জাইকার অর্থায়নে পটিয়া চানখালী খাল, মাতামুহুরি নদী, শঙ্খনদী ও বরুমতি খালের ওপর ৭৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি ৬ লেনের আদলে আধুনিক পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে বহুল প্রত্যাশিত মহাসড়ক উন্নীতকরণ প্রকল্পের মূল কাজ এখনো ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ বছরে দেশী-বিদেশী সংস্থার মাধ্যমে অন্তত চারবার সমীক্ষা হলেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নীতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন থমকে ছিল। বর্তমানে জাইকার আওতায় পঞ্চমবারের মতো সমীক্ষা ও নকশা কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নের নতুন আশা জাগিয়েছে।