আগডুম-বাগডুম কবিতাবলী

Printed Edition
agdum kobita
আগডুম-বাগডুম কবিতাবলী

বিজয় সুরক্ষা

হাসান আলীম

একাত্তরের স্বাধীনতার বিজয় হলো ডিসেম্বরে

বিজয় এলো লাল সূর্যের সবুজ শ্যামল বাংলাদেশের

মুক্ত স্বদেশ শিউলি ফুলের-

বিজয় দিবস লাল সবুজের বিজয় ষোলো ডিসেম্বরে।

বিজয় এলো লক্ষ বুকের রক্ত ভেজা নির্ঝরে,

বিজয় এলো ছাত্র শ্রমিক কৃষক মুজুর

দেশজনতার জীবন ঝরে।

সাগর প্রমাণ রক্তক্ষয়ে পালায় গেলো দখলদার,

আমরা স্বাধীন কতটুকু?

পেলাম কি আর সাম্য নীতি ন্যায় ইনসাফ ও সুবিচার!

পূর্ণ বিজয় খুশবু কুসুম ফুটবে কবে আলোর-ফুল?

বিজয় দিবস হোক বিজয়ের দুঃখ জয়ের স্বর্ণ-দুল।


স্বাধীনতা-স্বাদ পেয়েছি

আতিক রহমান

লাল সবুজের পতাকা দেখলে

স্মৃতিতে অশ্রু ঝরে

মলিন এ মুখে কী এক অসুখে

আব্বুকে মনে পড়ে।

গান ভুলে পাখি, ছেড়ে ডাকাডাকি

থাকে মন ভার করে

এই বুক শুধু- হয়ে যায় ধু-ধু

আব্বুকে মনে পড়ে।

সকালের ফুল অভিমান করে

বিকেলেই যায় ঝরে!

ফুলের ব্যথায় ব্যথিত চিত্তে

আব্বুকে মনে পড়ে।

নদীর গর্ভে জেগে ওঠে চর

প্রাণহীন নদী মরে

সুখের বিয়োগে দুধ বেড়ে যায়

আব্বুকে মনে পড়ে।

এতিম শিশুরা চোখের সামনে

বড় হয় অনাদরে

ওদের দুঃখে হয়ে যাই দুখি

আব্বুকে মনে পড়ে।

স্বাধীনতা-স্বাদ পেয়েছি আমরা

১৬ ডিসেম্বরে

যুদ্ধে শহীদ হয়ে যাওয়া সেই

আব্বুকে মনে পড়ে ॥


সোনার পটে নদী আঁকাবাঁকা

এ কে আজাদ

শিশির ভেজা সোনালি ধান নরম শীতের মাঠে

সোনায় মাখা সকাল বেলায় হেমন্ত যে হাঁটে

হাঁটতে গিয়ে শিশির ধোয়া পা দুখানি থমকে

শান্ত নদীর ঢেউ দেখে ঐ মনটা ওঠে চমকে।

সাদা ওড়নায় মুখ ঢাকা ঐ লালচে রঙের রবি

কে আঁকালো নদীর বুকে এমন মোহন ছবি!

ঝিরিঝিরি হাওয়ায় কাঁপে ছোট্ট নদীর ঢেউ

পাল তোলা ঐ নাওয়ে চলে দূরের মাঝি কেউ।

ধানের মাঠে সোনার পটে নদী আঁকাবাঁকা

দুই ধারে মাঠ, মধ্যে নদী অবাক ছবি আঁকা

কোথাও সাদা কাশের ফুলে দুলিয়ে মাথা ঐ

নদীটারে সালাম জানায়- কেমন আছো সই?

নদী বলে মিষ্টি রোদে চিকিমিকি হেসে

সুখে-দুখে বয়ে চলি সোনার বাংলাদেশে।


আমার দেশ

মিয়া ইব্রাহিম

স্কুল মাঠে গাইতাম যখন

সোনার বাংলা গান

মনের ভেতর দীপ্ত শিখায়

উঠত জেগে প্রাণ।

শপথ করতাম হাত উঁচিয়ে

দেশটা গড়ার লক্ষ্যে

শত্রুমুক্ত রাখব দেশকে

লাগুক গুলি বক্ষে।

নদীর এদেশ ফুলের এদেশ

দেশটা তোমার আমার

কৃষক ভাইয়ের স্বাধীন দেশটা

অতুল ধানের খামার।

সবুজ দেশটা রাঙিয়ে থাকে

পাখ পাখালির গানে

শীতের পাখির আনাগোনা

জাগায় সাড়া প্রাণে।

ধর্ম-বর্ণ-জাত ভেদাভেদ

নেই তো আমার দেশে

পঞ্চ সুরের গান গেয়ে যাই

দেশকে ভালোবেসে।


মুক্ত করো সবুজ স্বদেশ

শেখ বিপ্লব হোসেন

স্বাধীনতার যুদ্ধটা তো

হয়নি আজো শেষ

মীর জাফরের বংশে ভরা

সারা বাংলাদেশ।

অফিস পাড়ায় ঘরে ঘরে

বৈষম্যতে ভরা

অন্ধকারে প্রেতাত্মারা

করছে নড়াচড়া।

বিপ্লবীরা ঘুমিয়ে গেলে

ঘুমিয়ে যাবে পাড়া

চব্বিশের এই বিজয় ফসল

হবে যে হাত ছাড়া।

বীর শহিদের রক্তে যেন

আর না লাগে দাগ

মুক্ত করো সবুজ স্বদেশ

শত্রু নিপাত যাক।


বিজয় এলো বলে

জয়নব জোনাকি

বিজয় বিজয় উৎসবে আজ

খুশিতে মন দোলে

মেঘে ঢাকা তারার মেলা

উঠল আবার জ্বলে

বিজয় এলো বলে।

সাগর নদী দ্বিগুণ বেগে

ছুটল দূরের পানে

ফুল-পাখিরা উঠল মেতে

নতুন দিনের গানে

রাত পেরিয়ে সোনালি ভোর

আলোর জোয়ার তোলে

বিজয় এলো বলে।

শহীদ খুনে এলো বিজয়

স্বপ্ন ভরা চোখে

বীরসেনাদের জয়ের মিছিল

সাধ্য কে তা রোখে!

বিজয় তুমি আনলে সবার

মলিন মুখের হাসি

মনের সুখে রাখাল বাজায়

মোহন সুরের বাঁশি।

লাল-সবুজের উড়ল নিশান

নীল আকাশের কোলে

বিজয় এলো বলে।


হেমন্তকাল

মজনু মিয়া

পাকা ধানের শীষ চুয়িয়ে

শিশির ধোয়ায় পা

দেখবি তোরা আয় রে ছুটে

সবুজ শ্যামল গাঁ।

ধান পেকেছে গান ধরেছে

কৃষক বুকে সুখ

আশার স্বপ্ন দেখে মনে

আলোয় হাসে মুখ।

ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে

সোনা সোনা ধান

হামাগুড়ি দিয়ে শিশু

মুঠ ভরে দেয় টান।


শীত সকালে

কাজী নাজরিন

শীত সকালে সবুজ ঘাসে

শিশির কণা জমে

মনের ভেতর সুখের পরশ

জাগায় দমে দমে।

ফুলের দেশে পাখিরা সব

আনাগোনা করে

নানান রঙের ফুলের বাহার

ফোটে থরে থরে।


এলো বিজয় মাস

যাইদ আল মারুফ

এলো বিজয় মাস

দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে

পাক হানাদের রুদ্ধ করে

শুদ্ধ করে বীর বাঙালি

পুঁতে তাদের লাশ;

করছে তাদের নাশ।

দিয়েছে তাদের পাল্টা জবাব

জুলুম যাদের নিত্য স্বভাব

একাত্তরের বীর চেতনা

বাঙালি নয় দাস;

ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ

ফেলছে স্বাধীন শ্বাস।