সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

Printed Edition
first-2
গ্রেফতারের পর আদালতে নেয়া হচ্ছে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এর পর তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তা নামুঞ্জর করে তাকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে গতকাল ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ৮/এ সড়কের একটি বাসা থেকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর লালবাগে গুলিবর্ষণ, হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরবর্তীতে বেলা ২টার দিকে পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়।

ডিএমপির অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। লালবাগ থানায় করা ওই মামলার বাদি মো: আশরাফুল ওরফে ফাহিম। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১১৫ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। যেখানে শিরীন শারমিন তিন নম্বর আসামি।

মামলায় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে ৫টা ৪০ মিনিটের মধ্যে লালবাগের আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় শান্তিপূর্ণ নিরস্ত্র আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ নেতাদের পরিকল্পনায় পুলিশ ও দলীয় কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করেন, যাতে বহু মানুষ আহত ও নিহত হন। বাদি আশরাফুল নিজেও ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তার বাম চোখ, মাথা, মুখমণ্ডল, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে এবং তিনি এখনো চিকিৎসাধীন। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, সাবেক স্পিকারের বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি মামলা রয়েছে এবং সেগুলোর তদন্ত চলমান। জানা গেছে, শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে রংপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন (৩৮) হত্যা মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলি আদালতে শিরীন শারমিনসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন রংপুর শহরের পূর্ব গণেশপুর এলাকার নিহত মুসলিম উদ্দিনের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার (৩২)। মামলার এজাহারে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিটি বাজার এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে মুসলিম উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হলে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে আসামিদের চাপে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করে তার পরিবার।

এ দিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই শিরীন শারমিন চৌধুরী আড়ালে চলে যান। এর আগে গুঞ্জন উঠেছিল, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা সংসদ ভবনে প্রবেশের সময় তিনি ভবনটির একটি গোপন কক্ষ বা বাংকারে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে রাত আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনী তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। এর পর থেকে তিনি কোথায় ছিলেন তা জানা যায়নি। তিনি দেশে থাকা বা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ছিল রহস্যাবৃত। দীর্ঘ ২০ মাস আত্মগোপনে থাকার পর গতকাল ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হলো। এর আগে গ্রেফতার হওয়া সাবেক মন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানিতে বলেছিলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন ৫ আগস্ট সকাল থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুসহ তারা ১২ জন জাতীয় সংসদ ভবনের ‘একটি কক্ষে লুকিয়ে ছিলেন’। পরে সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধার করে। এ বিষয়ে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, এ মামলায় শিরীন শারমিনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। ডিবি সূত্র আরো জানিয়েছে, বিশেষ কিছু তথ্যের প্রয়োজনে তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হতে পারে।