আলজাজিরাকে ডা: শফিকুর রহমান
ভবিষ্যতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নারীদের প্রস্তুত করছে জামায়াত
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, দল এখনো নারী প্রার্থী দেয়ার জন্য পূর্ণ প্রস্তুত নয়; তবে ভবিষ্যতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে নারীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আলজাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, জামায়াতের আমির পদে কোনো নারী দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না- এটি আল্লাহ প্রদত্ত সৃষ্টিগত পার্থক্যের কারণে সম্ভব নয়।
আলজাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন নেওয়া এই সাক্ষাৎকারে জামায়াতের রাজনৈতিক উত্থান, ইসলামী আইন প্রয়োগ, নারী অধিকার, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, ১৯৭১ সালের ভূমিকা, ভারতের সাথে সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
আলজাজিরা : নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে আমরা কথা বলছি। সব হিসাব অনুযায়ী আপনার দল হয়তো তার ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো ফল করতে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত? কারণ জামায়াতে ইসলামী বলেছে- আপনাদের লক্ষ্য দেশকে ইসলামী আইন দ্বারা পরিচালিত করা।
ডা: শফিকুর রহমান : আপনি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন তুলেছেন। আমরা বর্তমান দেশের আইনের অধীনেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমরা জনগণের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করব। জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছুই করব না।
আলজাজিরা : কিন্তু গত বছরের জুলাইয়ে এক জনসভায়, যেখানে আপনিও উপস্থিত ছিলেন, আপনার দলের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান বলেছিলেন- ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদে শুধু ইসলামী আইনই মানা উচিত, মানুষের বানানো কোনো ব্যবস্থা নয়।
ডা: শফিকুর রহমান : এ ক্ষেত্রে দলের প্রধানের বক্তব্য অনুসরণ করা উচিত।
আলজাজিরা : তাহলে কি আপনি তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছেন?
ডা: শফিকুর রহমান : না, আমি কিছুই প্রত্যাখ্যান বা গ্রহণ করছি না। দলের কৌশল নির্ধারণের সময় দলের প্রধান যা বলবেন সেটাই বিবেচনায় নেয়া হবে। আমরা ইসলাম স্বীকৃত মূল্যবোধ- যেমন দুর্নীতিবিরোধিতা, স্বচ্ছতা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষার কথা বলছি।
ইসলামী আইন চালুর প্রশ্নে
আলজাজিরা : আপনি যদি ক্ষমতায় আসেন, তাহলে কি ইসলামী আইন চালু করবেন?
ডা: শফিকুর রহমান : যদি দেশের উন্নতির জন্য তা অপরিহার্য হয়, তাহলে সংসদ বিষয়টি সিদ্ধান্ত নেবে। আমি এককভাবে নই- সংসদই সিদ্ধান্ত নেবে।
নারীদের কর্মঘণ্টা প্রসঙ্গ
আলজাজিরা : আপনি নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন- কুরআনের নীতির আলোকে যাতে তারা সন্তানদের দায়িত্ব পালন করতে পারে। একবিংশ শতাব্দীতে কেন এমন প্রস্তাব?
ডা: শফিকুর রহমান : কে বলেছে? আমি এমন কোনো প্রস্তাব দিইনি।
আলজাজিরা : এটি আপনার বক্তব্য হিসেবেই ব্যাপকভাবে প্রচার হয়েছে।
ডা: শফিকুর রহমান : আমি যা বলেছি তা হলো- একজন মা একই সাথে সন্তান ধারণ, লালন-পালন এবং পুরুষদের মতো সমান সময় ও সমান দায়িত্ব পালন করলে সেটা ন্যায়সংগত হয় না। বিশেষ করে গর্ভধারণ, সন্তান জন্ম ও স্তন্যদানকালীন সময়ে তাকে সম্মান দেখাতে হবে।
আলজাজিরা : বাংলাদেশে এরই মধ্যেই মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা আছে।
ডা: শফিকুর রহমান : হ্যাঁ, মাত্র ছয় মাসের জন্য। আমরা মনে করি এটা যথেষ্ট নয়। একটি শিশু ছয় মাসে বড় হয়ে ওঠে না।
আলজাজিরা : এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে। নারীরা বলছে- তারা কাজ করবে নাকি ঘরে থাকবে, সেটা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
ডা: শফিকুর রহমান : এগুলো খুব নগণ্য প্রতিবাদ।
আলজাজিরা : সমালোচকদের মতে, আপনার প্রস্তাব নারীদের স্বাধীনতা সীমিত করবে এবং কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে দেবে।
ডা: শফিকুর রহমান : না, এটি অন্ধকারে ঠেলে দেয়ার বিষয় নয়। এটি সম্মান প্রদর্শনের প্রশ্ন। কিছু অ্যাকটিভিস্ট আছেন, যাদের আদর্শ আমাদের বিপরীত। তারা প্রতিবাদ করতে পারেন, আমরা সম্মান করি।
আলজাজিরা : পোশাকশিল্পে লাখো নারী কাজ করেন। আশঙ্কা হচ্ছে- এতে নিয়োগকর্তারা নারীদের নিয়োগে অনাগ্রহী হবে।
ডা: শফিকুর রহমান : এটা বাস্তবতা নয়। আমি নিজে কয়েকটি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেছি। কোথাও এমন উদ্বেগ দেখিনি। বরং তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
নির্বাচনে নারী প্রার্থী না দেয়া
আলজাজিরা : এই সংসদ নির্বাচনে জামায়াত কতজন নারী প্রার্থী দিয়েছে?
ডা: শফিকুর রহমান : একজনও নয়। তবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমাদের বোনেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে এবং সফলও হয়েছে। ভবিষ্যতে সংসদ নির্বাচনেও ইনশাআল্লাহ প্রস্তুতি থাকবে।
আলজাজিরা : অন্য দলগুলো তো নারী প্রার্থী দিয়েছে। জামায়াত কেন অন্তত একজনও দেয়নি?
ডা: শফিকুর রহমান : কারণ আমরা এখনো প্রস্তুতির পর্যায়ে আছি। এতে নারীদের প্রতি কোনো অসম্মান নেই।
জামায়াতের প্রধান পদে নারী নেতৃত্ব প্রসঙ্গ
আলজাজিরা : কোনো নারী কি ভবিষ্যতে জামায়াতের আমির হতে পারেন?
ডা: শফিকুর রহমান : না, এটা সম্ভব নয়। আল্লাহ মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন সত্তায় সৃষ্টি করেছেন। পুরুষ ও নারীর মধ্যে সৃষ্টিগত পার্থক্য আছে। আমরা তা পরিবর্তন করতে পারি না।
আলজাজিরা : সব নারী তো মা হতে চান না। তবু কেন তারা সংগঠনের নেতৃত্ব দিতে পারবেন না?
ডা: শফিকুর রহমান : কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা আছে। একজন মা যখন সন্তান জন্ম দেন ও লালন করেন, তখন পূর্ণ দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয় না। আল্লাহই সবকিছু ভালো জানেন।
আলজাজিরা : বাংলাদেশে গত তিন দশক ধরে নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
ডা: শফিকুর রহমান : আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করিনি। তবে বিশ্বে তাকালে দেখবেন- উন্নত দেশগুলোতেও নারী নেতৃত্ব খুবই সীমিত।
বিএনপি জোট সরকার ও নারী প্রধানমন্ত্রী
আলজাজিরা : আপনি তো বিএনপির সাথে জোট সরকারে ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আপনি কি মনে করেন তিনি ভালো কাজ করেছেন?
ডা: শফিকুর রহমান : এটা তাদের দলের সিদ্ধান্ত। আমাদের উচিত তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করা।
গণমাধ্যম স্বাধীনতা ও ছাত্রসংগঠন প্রসঙ্গ
আলজাজিরা : জামায়াতের উত্থান গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি- এমন আশঙ্কা রয়েছে। আপনার ছাত্রসংগঠনের নেতারা প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।
ডা: শফিকুর রহমান : আপনি ব্যক্তিগত বক্তব্য দেখেছেন, কিন্তু জামায়াতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান দেখেননি। আমরা এসব বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছি, কখনো সমর্থন করিনি।
আলজাজিরা : তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে?
ডা: শফিকুর রহমান : এটা ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিষয়। শিবিরই ব্যবস্থা নেবে। তারা আমাদের সরাসরি সংগঠন নয়।
সংখ্যালঘু ও ১৯৭১ প্রসঙ্গে
আলজাজিরা : স্যার, আমি জানতে চাই- জামায়াত ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের কী হবে? আপনি বলেছেন সব ধর্মকে সমানভাবে দেখা হবে, কিন্তু জামায়াতের অতীত রেকর্ড তো অন্যরকম দেখায়, তাই না?
ডা: শফিকুর রহমান : কোন রেকর্ড?
আলজাজিরা : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, ২০০১-২০০৬ সালে আপনি ও বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে হিন্দুদের ওপর হামলা ভয়াবহভাবে বেড়ে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হামলাকারীরা বিএনপি ও জামায়াতের সদস্য ছিল।
ডা: শফিকুর রহমান : আমরা এই অভিযোগ চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি। জামায়াতে ইসলামী থেকে কেউ এ ধরনের ভাঙচুর বা হামলায় জড়িত ছিল না।
আলজাজিরা : আপনি কি জামায়াতের কোনো ভূমিকা সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন?
ডা: শফিকুর রহমান : হ্যাঁ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে আমরা বহুবার খুব স্পষ্টভাবে এটা বলেছি। এখনো বলছি।
আলজাজিরা : জাতিসঙ্ঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টের বিদ্রোহের পর সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রতিক হামলায় জামায়াত ও বিএনপির কিছু সমর্থক প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় জড়িত ছিল।
ডা: শফিকুর রহমান : আমি এটা প্রত্যাখ্যান করছি।
আলজাজিরা : আমি দু’টি আন্তর্জাতিক সংস্থার দু’টি ভিন্ন সময়ের মানবাধিকার প্রতিবেদন উল্লেখ করছি, আর আপনি বলছেন এগুলো ঠিক নয়। তাহলে কি সবই মিথ্যা?
ডা: শফিকুর রহমান : না, আমি বলছি না সব মিথ্যা। বাস্তবতা হলো- হামলা হতে পারে। কিন্তু আমরা এতে জড়িত নই। দয়া করে তারা যেন নির্দিষ্ট করে বলে কারা জড়িত ছিল, আমরা ব্যবস্থা নেবো।
১৯৭১ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ
আলজাজিরা : জামায়াত একটি বড় ঐতিহাসিক নেতিবাচক বোঝা বহন করছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনীর সাথে সহযোগিতা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। আনুমানিক ৩০ লাখ মানুষ নিহত এবং তিন লাখ নারী ধর্ষণের শিকার হয়। আপনার অনেক নেতা দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। এটা কি খুবই অন্ধকার উত্তরাধিকার নয়?
ডা: শফিকুর রহমান : আপনি আমাকে খুব কঠিন প্রশ্ন করছেন। দয়া করে তখনকার বাস্তবতায় তাকান। জামায়াতে ইসলামী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা ছিল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এটি কোনো সশস্ত্রবাহিনী ছিল না। তখন পাকিস্তান ছিল ঐক্যবদ্ধ। জামায়াতের নেতারা মনে করেছিলেন, ভারতের সহায়তায় পাকিস্তান ভেঙে গেলে বাংলাদেশ আরেকটি আধিপত্যের মধ্যে পড়বে- যা আমরা গত ৫৪ বছর ধরে দেখছি।
যুদ্ধাপরাধ প্রসঙ্গে
আলজাজিরা : আমি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, যুদ্ধাপরাধ নিয়ে প্রশ্ন করছি।
ডা: শফিকুর রহমান : আমি সেদিকেই আসছি। আমরা তখন কোনো অপরাধে জড়িত ছিলাম না।
আলজাজিরা : তাহলে আদালত কেন মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে?
ডা: শফিকুর রহমান : ওগুলো ছিল বিকৃত ও বিতর্কিত বিচার। ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা।
আলজাজিরা : কেন এবং কিভাবে?
ডা: শফিকুর রহমান : একই আদালত ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর আমাদের নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের একটি মুলতবি মামলার রায় দিয়ে আগের রায়ের ওপর গুরুতর পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। বিচারগুলো ছিল রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ও অযৌক্তিক।
আলজাজিরা : কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনজীবী কমিশন, নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ বহু সূত্র বলছে- জামায়াত-সম্পৃক্ত প্যারামিলিটারি বাহিনী বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল।
ডা: শফিকুর রহমান : তখন সেনাবাহিনী ও প্যারামিলিটারি বাহিনী ছিল। এগুলো পরিচালিত হয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দ্বারা, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের দ্বারা নয়।
আলজাজিরা : কিন্তু জামায়াতের লোকজন তো ওই বাহিনীর অংশ ছিল?
ডা: শফিকুর রহমান : যদি কেউ নৃশংসতায় জড়িত থাকত, তাহলে কেন তখন কোনো মামলা বা জিডি হয়নি-পূর্ব পাকিস্তানে বা স্বাধীন বাংলাদেশে? কেন একজনকেও তখন অভিযুক্ত করা হয়নি?
আলজাজিরা : অনেক সময় অতীত অপরাধ স্বীকার করতে দশক লাগে।
ডা: শফিকুর রহমান : তখন শেখ মুজিব প্রায় চার বছর দেশ শাসন করেছিলেন। তিনি ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর তালিকা করেছিলেন- তারা সবাই পাকিস্তানি ছিলেন, বাংলাদেশের কেউ ছিলেন না।
আলজাজিরা : আপনি নিউ ইয়র্কে বলেছিলেন- ১৯৪৭ থেকে জামায়াত যদি কারো ক্ষতি করে থাকে, আপনি নিঃশর্ত ক্ষমা চান।
ডা: শফিকুর রহমান : হ্যাঁ।
আলজাজিরা : এটা কি কোনো দায় স্বীকার?
ডা: শফিকুর রহমান : আমরা মানুষের দ্বারা গঠিত সংগঠন। মানুষ ভুল করতে পারে।
আলজাজিরা : ৭১-এর নৃশংসতাও ভুল?
ডা: শফিকুর রহমান : ভুল আর নৃশংসতা এক নয়। আমি নৃশংসতার কথা বলিনি। আমি ভুলের কথা বলেছি।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক
আলজাজিরা : ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন বড় বিতর্ক। বাংলাদেশ চাইছে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে, ভারত অস্বীকার করছে। আপনি ক্ষমতায় এলে কী করবেন?
ডা: শফিকুর রহমান : আমরা ভারতের সাথে ফলপ্রসূ সংলাপ করব। তারা আমাদের প্রতিবেশী। আমাদের সম্পর্ক হবে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ, বন্ধুত্বপূর্ণ- পারস্পরিক সম্মান ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে।
আলজাজিরা : ভারত যদি ফেরত পাঠাতে অস্বীকার করে?
ডা: শফিকুর রহমান : তাহলে আরো সংলাপ হবে। অন্য কোনো পথ নয়।
আলজাজিরা : ভারত কি আপনার সাথে যোগাযোগ করেছে?
ডা: শফিকুর রহমান : একজন কূটনীতিক আমার অসুস্থতার সময় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন। কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি।
আলজাজিরা : ভারত অভিযোগ করছে- বাংলাদেশ ভারতবিরোধী বিদ্রোহীদের আশ্রয় দিচ্ছে।
ডা: শফিকুর রহমান : ভারতবিরোধী নই-আমরা প্রো-বাংলাদেশী। প্রতিটি নাগরিকের প্রথম আনুগত্য নিজের দেশের প্রতি।
আলজাজিরা : আপনি কি পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে আছেন?
ডা: শফিকুর রহমান : একদমই না। আমরা সবার সাথে ন্যায্য সম্পর্ক চাই।
তরুণদের প্রত্যাশা ও জামায়াতের ভবিষ্যৎ
আলজাজিরা : এই নির্বাচন তরুণদের পরিবর্তনের আকাক্সক্ষার ফল। নারী, সংখ্যালঘু- সব আলোচনার পর আপনি কি মনে করেন জামায়াত পরিবর্তন আনতে পারবে?
ডা: শফিকুর রহমান : জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। পাঁচটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে মেয়েরা ও ছেলেরা সচেতনভাবে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ভোট দিয়েছে। তারা বিশ্বাস করেছে- তাদের মর্যাদা, সম্মান ও নিরাপত্তা আমরা রক্ষা করব। এই বার্তাই তরুণরা দিয়েছে।