মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো সংশোধনের উদ্যোগ
দারিদ্র্য নিরসন, নারী উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
দারিদ্র্য নিরসন, নারী উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কর্মসূচির ওপর গুরুত্বারোপ করে মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো (এমটিবিএফ) সংশোধন ও হালনাগাদ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই জন্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
সম্প্রতি অর্থ বিভাগ থেকে জারিকৃত ‘মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো সংশোধন ও হালনাগাদকরণ’ শীর্ষক বাজেট পরিপত্র-১-এ এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো সংশোধনের জন্য তথ্য প্রেরণের কথাও বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাথমিক ব্যয় প্রাক্কলন এবং ২০২৭-২৮ ও ২০২৮-২৯ অর্থবছরের প্রক্ষেপণ প্রণয়ন করতে হবে। প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ প্রণয়নে সব সম্পদসীমাকে পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ে বিভক্ত করে পৃথকভাবে প্রদর্শন করে দেখাতে হবে। প্রণীতব্য এ বাজেট কাঠামো আগামী নতুন বছরের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ ও সাধারণ অর্থনীতি বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা ও কার্যকারিতা বাড়ানো এবং সরকারের কৌশলগত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলোর অর্জন নিশ্চিত করতে ‘মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো’ পদ্ধতিতে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। সরকারের ‘প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-৪১’ ও ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২১-২০২৫)’-এর আলোকে কৌশলগত উদ্দেশ্য চিহ্নিত করা; সরকারের মৌলিক নীতিনির্ধারণী দলিলগুলোয় প্রতিফলিত কৌশলগত নীতি ও অগ্রাধিকারের সাথে বাজেট বরাদ্দের যোগসূত্র স্থাপন করা; মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের সাথে বাজেট বরাদ্দের যোগসূত্র অধিকতর শক্তিশালী করা এবং মধ্যমেয়াদে প্রাপ্য সম্পদের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত ব্যয় পরিকল্পনা তৈরি করা মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো সংশোধন ও হালনাগাদ করার প্রধান উদ্দেশ্য। এ প্রক্রিয়ার তিনটি পর্যায় রয়েছে- কৌশলগত, প্রাক্কলন ও বাজেট অনুমোদন। কৌশলগত পর্যায়ের প্রথম ধাপে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদ্যমান বাজেট কাঠামো হালনাগাদ করতে হবে।
পরিপত্রে দারিদ্র ও নারী উন্নয়ন সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত উদ্দেশ্যগুলো দারিদ্র্য নিরসন ও নারী উন্নয়নকে কিভাবে প্রভাবিত করবে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তসহ সে সম্পর্কিত যৌক্তিকতা বাজেট কাঠামোর প্রথম ভাগে লিপিবদ্ধ করতে হবে। দারিদ্র্য নিরসন ও নারী উন্নয়নে কৌশলগত উদ্দেশ্যের প্রভাব বিশ্লেষণ এবং প্রকল্প ব্যয়ের ব্যবহার নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
পরিপত্রে জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমনের ওপর প্রভাব সম্পর্কিত কার্যক্রমের বিষয়ে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট উষ্ণায়ন, খরা, অনাবৃষ্টি, আগাম বন্যা, অতিবৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, নতুন নতুন রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব, স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি ইত্যাদি টেকসই ও কার্যকর উন্নয়নের অন্তরায়। ফলে সবুজ প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যকে জলাধার সংরক্ষণ-পূর্বক প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাস, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি অর্থাৎ গ্রিন ক্লাইমেট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কিত কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে। পরিপত্রে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত উদ্দেশ্যগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় (অভিযোজন ও প্রশমন) কিভাবে ভূমিকা রাখবে- সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও উপাত্তসহ বিশ্লেষণ প্রদান করতে হবে। ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যান’, ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান’, ‘গাইডলাইন ফর গ্রিন অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স ইন পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্টস’-এ বর্ণিত কার্যক্রমের ভিত্তিতে জলবায়ু অর্থায়ন নিরূপণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এটি ২৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।